কক্সবাজারের উখিয়ায় সমুদ্রসৈকতের পৃথক দুটি স্থান থেকে তিনজনের অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার জালিয়াপালং ইউনিয়নের মাদারবুনিয়া ও মনখালী সৈকত থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি টেকনাফের বাহারছড়া উপকূলে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজদের মধ্যে তারা রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মাদারবুনিয়া নৌকার ঘাট এলাকায় একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি উদ্ধার করে।
এর কয়েক ঘণ্টা পর বিকেল ৩টার দিকে একই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মনখালী সমুদ্রসৈকতে আরও দুটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর পাওয়া যায়। পরে ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করেন। দুটি মরদেহের মধ্যে দূরত্ব ছিল প্রায় ৫০০ মিটার।
উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, তিন মরদেহের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এগুলো টেকনাফের বাহারছড়া উপকূলে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের মরদেহ কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
তিনি জানান, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর রাতে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া নৌকাঘাটসংলগ্ন সাগরে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের বহনকারী একটি ট্রলার ডুবে যায়। পুলিশ ও কোস্ট Guard-এর তথ্য অনুযায়ী, সাগরপথে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় ট্রলারটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে এক নারী ও এক শিশুর মৃত্যু হয়। পরে কোস্ট Guard ও স্থানীয়দের সহায়তায় কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় আরও একজন নারী নিখোঁজ থাকার তথ্য পাওয়া যায়।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারা প্রায় এক বছর আগে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছিলেন। পরে সাগরপথে আবার বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করছিলেন।
এ অবস্থায় উখিয়ার সৈকত থেকে উদ্ধার হওয়া তিন মরদেহ ওই ট্রলারডুবির নিখোঁজদের কি না, সেটিই এখন তদন্ত করে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আর / দক্ষিণপূর্ব
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।