নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে বিএনপি ও সমন্বয়কদের দুটি পক্ষে ব্যাপক হাতাহাতি, উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থানায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় কর্ণফুলী থানা প্রাঙ্গণে ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কর্ণফুলী থানার ওসি শরীফুল ইসলাম।
জানা যায়, কর্ণফুলীর ডাঙ্গারচর এলাকায় বাংলা ক্যাডেট নামে একটি কারখানা থেকে তেল বের করে বিক্রি করতো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বর্তমানে সেটি করতে চাচ্ছেন বিএনপি নেতা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। ওই তেলের টেন্ডার নিয়েই দু পক্ষে ঝামেলা হচ্ছিল। এ নিয়ে বিএনপি'র এক নেতা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্ণফুলী শাখার এক নেতাকে হুমকিও দেন। এ নিয়ে কর্ণফুলী থানার আওতাধীন ডাঙ্গারচর নৌ-তদন্ত কেন্দ্রে জিডি করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ওই নেতা। তবে তাদের কারোরই তাৎক্ষণিকভাবে নাম জানা যায়নি।
মঙ্গলবার দুপুরে ডাঙ্গারচর নৌ তদন্ত কেন্দ্রে বিষয়টি নিয়ে পুলিশের মাধ্যমে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল দু পক্ষে। কিন্তু সেখানে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়ান বিএনপি'র এক নেতা। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। যা নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কর্ণফুলী থানায় জড়ো হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। এ সময় অপর পক্ষের বিএনপি নেতারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষ থানায় মুখোমুখি হয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। কর্ণফুলী উপজেলার জুলধা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব সালাউদ্দিনসহ বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকে থানায় অবরুদ্ধ করে রাখে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ। এতে দু'পক্ষেই ব্যাপক হট্টগোল, হাতাহাতি হয়। উত্তেজনার ছড়িয়ে পড়লে আশেপাশ থেকে দু পক্ষের লোকজনই থানায় ভিড় করে৷
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পাঠায় ভিডিওতে দেখা গেছে, এক পক্ষ আরেক পক্ষকে মারতে তেড়ে যাচ্ছে। মূলত ফেসবুকে পোস্টকে কেন্দ্র করে ঘটনায় আরও বেশি উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হট্টগোলের মধ্যেও মোবাইলে ফেসবুক এ্যাপস বের করে পোস্ট দেখাতে দেখা যায় কয়েকজনকে।
এ বিষয়ে জানতে কর্ণফুলী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মামুন মিয়াকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
কর্ণফুলী থানার ওসি শরিফুল ইসলাম বলেন, থানায় তেমন কোন ঝামেলা হয়নি। ভিডিওতে আপনি যা দেখেছেন তা হতেই পারে। তারা সেখানে শুধু কথা বলছিল। তিনি বলেন ডাঙ্গাছড়ে একটি ঘটনা কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষই থানায় অভিযোগ দায়ের করে। এ সময় কে কার বিপক্ষে কি নিয়ে অভিযোগ দাখিল করেছেন তা জানতে চাইলে ওসি জানাতে পারেননি।
এম
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।