চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ উৎপাদন রেকর্ড ছাড়িয়ে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছালেও নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। সরকারি হিসাবে বিদ্যুতের ঘাটতি তুলনামূলক কম দেখানো হলেও দিনের বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন বাসিন্দারা। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—উৎপাদন বাড়লেও কেন কমছে না লোডশেডিং?
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) স্বয়ংক্রিয় প্রতিবেদনে দেখা যায়, রোববার (২ আগস্ট) দুপুর ১১টায় চট্টগ্রাম বিভাগে বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ৩ হাজার ২৬১ দশমিক ২ মেগাওয়াট। সন্ধ্যা ৭টায় তা বেড়ে ৩ হাজার ৩৯২ মেগাওয়াটে পৌঁছায়, যা ওই দিনের সর্বোচ্চ উৎপাদন।
একই সময়ে চট্টগ্রাম থেকে জাতীয় গ্রিডে দুপুরে ১ হাজার ৮৫২ দশমিক ২ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় ২ হাজার ৪ দশমিক ২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের নিজস্ব চাহিদা ছিল দুপুরে ১ হাজার ৪০৯ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় ১ হাজার ৩৮৭ দশমিক ৮ মেগাওয়াট। বিপরীতে ব্যবহার হয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৩৯৫ মেগাওয়াট ও ১ হাজার ৩২৮ দশমিক ৭ মেগাওয়াট। সরকারি হিসাবে দুপুরে লোডশেডিং ছিল ১৪ মেগাওয়াট, যা সন্ধ্যায় বেড়ে ৫৯ দশমিক ১ মেগাওয়াটে দাঁড়ায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে এ ঘাটতি প্রায় ৬৩ মেগাওয়াটের কাছাকাছি ওঠানামা করেছে।
উৎপাদনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে এসএস পাওয়ার বাঁশখালী ও মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এসএস পাওয়ার বাঁশখালী দুপুরে ১ হাজার ২১৪ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় ১ হাজার ২২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। মাতারবাড়ী কেন্দ্র উৎপাদন করেছে যথাক্রমে ১ হাজার ১৩৩ ও ১ হাজার ১৩০ মেগাওয়াট। শিকলবাহা ২২৫ মেগাওয়াট কেন্দ্র থেকেও উৎপাদন অব্যাহত ছিল।
অন্যদিকে, ২১০ মেগাওয়াট সক্ষমতার রাউজান-১ ও রাউজান-২ কেন্দ্র দুটি পুরো দিন বন্ধ ছিল। কেইপিজেড সৌর কেন্দ্র থেকেও কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়নি। তেকনাফ ও কাপ্তাই সোলার কেন্দ্রেও সন্ধ্যার পর উৎপাদন শূন্যে নেমে আসে।
এদিকে আগ্রাবাদ, হালিশহর, চান্দগাঁও, বাকলিয়া ও পাহাড়তলীসহ নগরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে দিনে ও রাতে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এতে গরমের মধ্যে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
হালিশহরের বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “সবসময় দেখি চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেশি। প্লান্টও তো কম নয়। কিন্তু আমাদের এলাকায় দিনে তিন-চারবার বিদ্যুৎ যায়। গরমে যে কষ্ট পাচ্ছি, তা আর সহ্য হচ্ছে না।”
চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বাসিন্দা পালি বেগম বলেন, “সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ চলে গেলে রান্না, পড়াশোনা—সবই ব্যাহত হয়। এত ঘন ঘন বিদ্যুৎ যায়, বলার অপেক্ষা থাকে না।”
লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়ছে ব্যবসাতেও। চট্টগ্রাম মহানগর দোকান মালিক সমিতির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা না থাকায় ছোট ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
এ বিষয়ে বিপিডিবির সহকারী পরিচালক আকবর হোসেন বলেন, চট্টগ্রামে উৎপাদিত বিদ্যুতের বড় অংশ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। পাশাপাশি সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণেও কোথাও কোথাও সাময়িক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা হতে পারে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
পিডিবির একই প্রতিবেদনে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তরের তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। রোববার দুপুরে পানির স্তর ছিল ১০১ দশমিক ৭৩ ফুট, যা সন্ধ্যায় সামান্য কমে ১০১ দশমিক ৬৮ ফুটে দাঁড়ায়। রুল কার্ভ অনুযায়ী নির্ধারিত মান ৮৯ দশমিক ৩২ ফুটের তুলনায় বর্তমানে হ্রদের পানির স্তর উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি রয়েছে।
এসআই
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।