চট্টগ্রামের কালুরঘাট বিসিক শিল্পনগরীর নিরাপত্তা জোরদারে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পুরো শিল্পনগরীকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার পাশাপাশি চারটি প্রবেশপথে নিরাপত্তা গেট নির্মাণ, শিল্প পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন এবং আনসার সদস্য নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিল্পনগরীর সড়কের ওপর বসানো অবৈধ ও ভাসমান দোকান উচ্ছেদের বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার কালুরঘাট বিসিক শিল্পনগরীর মোস্তফা গার্মেন্টসের কনফারেন্স রুমে চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা জোরদারে শিল্পমালিকদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৩, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম। এতে সভাপতিত্ব করেন বিসিকের আঞ্চলিক পরিচালক (উপসচিব পদমর্যাদার) খালেদ মাহমুদ।
সভায় পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম বলেন, কালুরঘাট বিসিক শিল্পনগরীকে পুরোপুরি সিসিটিভির আওতায় আনা, শিল্পকারখানাগুলোতে নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং বিসিকের অধীনে নিরাপত্তা আনসার সদস্য নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি সংঘটিত অপরাধ শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিরাপত্তা জোরদারে বিসিক শিল্পনগরীর চারটি প্রবেশপথে গেট নির্মাণের ব্যবস্থা করতে বিসিক কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। বিসিকের অভ্যন্তরে জায়গা বরাদ্দ পাওয়া গেলে শিল্প পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্প চালু করা হবে বলেও জানান পুলিশ সুপার।
তিনি বলেন, কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানা ও শিল্প পুলিশকে জানাতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা ও সেমিনারের আয়োজন এবং স্ব স্ব কারখানার উদ্যোগে শ্রমিকদের জন্য স্বল্পমূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় শিল্পমালিকদের পক্ষ থেকে শিল্পনগরীতে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন, মালিক সমিতির জন্য জায়গা বরাদ্দ এবং অবৈধ ভাসমান দোকান উচ্ছেদের দাবি জানানো হয়। শিল্পমালিকদের অভিযোগ, এসব দোকানকে কেন্দ্র করে মাদক সেবনসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটে।
সভাপতির বক্তব্যে বিসিকের আঞ্চলিক পরিচালক খালেদ মাহমুদ শিল্পনগরীর নিরাপত্তায় নতুন নিরাপত্তা গেট নির্মাণ এবং সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
মতবিনিময় সভায় বিসিক শিল্পমালিক সমিতির সভাপতি ওয়াহেদ মালেক, সাধারণ সম্পাদক অজিত কুমার দাশসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মোস্তফা গ্রুপের পরিচালক তাইমুর রহমান, অলিম্পিক মিল্ক ফুডের পরিচালক আফতাব উদ্দিন, চসিকের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, পিডিবি, শিল্প পুলিশ ও সিএমপির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে শিল্প পুলিশ-৩, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম কালুরঘাট বিসিক শিল্পনগরীর মোস্তফা গার্মেন্টস এবং চান্দগাঁও শিল্প পুলিশ বক্স পরিদর্শন করেন।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।