দক্ষিণ পূর্ব

ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন দ্রুতই শুরু হচ্ছে : অর্থমন্ত্রী

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২৬
পঠিত :
ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন দ্রুতই শুরু হচ্ছে :  অর্থমন্ত্রী

ছবি

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বন্যাকবলিত চট্টগ্রাম নগরী ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় দিনব্যাপী ত্রাণ বিতরণ করেছেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে বলেন, সরকার শুধু ত্রাণ বিতরণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব করে পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসন কার্যক্রমও বাস্তবায়ন করা হবে।

 

শুক্রবার  (১৭ জুলাই) সকালে তিনি নগরীর পতেঙ্গা এলাকার মাইজপাড়া মাহমুদুন নবী চৌধুরী স্কুলসংলগ্ন এলাকা, হাদীপাড়া ও খেজুরতলায় বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে চাল, রান্না করা খাবার, শুকনো খাদ্যসামগ্রী ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করেন।

 

ত্রাণ বিতরণকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় চট্টগ্রামে কয়েক লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ইতোমধ্যে অধিকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ত্রাণ সহায়তা পেয়েছে এবং বাকিদের কাছেও দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পুনর্বাসন কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।

 

তিনি বলেন, বন্যার্ত মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সরকার তাদের পাশে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামত, কৃষক, মৎস্যচাষি, দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া হবে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের পর খাতভিত্তিক পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

 

দুপুরে অর্থমন্ত্রী সাতকানিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করেন। পরে লোহাগাড়া উপজেলার অধুনানগর ইউনিয়নে ডলু খালের ভাঙন পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং সেখানে ত্রাণ বিতরণ করেন। এরপর সাতকানিয়া উপজেলার নলুয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়সংলগ্ন এলাকায় বন্যাদুর্গতদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। বিকেলে তিনি বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাতে ত্রাণ তুলে দেন।

 

বিভিন্ন স্থানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, কৃষি, মৎস্যসহ সব খাতের ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। জরিপ শেষ হলেই দ্রুত সংস্কার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ঘর মেরামতের জন্য টিন সরবরাহ করা হবে। কৃষকদের বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ দেওয়া হবে। স্থানীয় সরকার বিভাগকে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

তিনি বলেন, কোথাও রেললাইন, কোথাও অপরিকল্পিত স্থাপনা কিংবা পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা বন্যার ক্ষয়ক্ষতি বাড়িয়ে থাকতে পারে। এসব বিষয় পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

অর্থমন্ত্রী জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় সাত লাখ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ৪০ হাজার পরিবারকে চাল, ৭৫ হাজার পরিবারকে চাল-ডালসহ শুকনো খাবার এবং ৪০ হাজার পরিবারকে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

 

স্থানীয় প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ, আবু সুফিয়ান, এনামুল হক এনাম ও জসীম উদ্দিন আহম্মেদ, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাজিমুর রহমান, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব হেলাল উদ্দিনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

আরএইচ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।