দক্ষিণ পূর্ব

খাবারে মাত্রাতিরিক্ত লবণ গ্রহণই বাড়াচ্ছে উচ্চ রক্তচাপ

mainulislam
প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৫
পঠিত :
খাবারে মাত্রাতিরিক্ত লবণ গ্রহণই বাড়াচ্ছে উচ্চ রক্তচাপ
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস পালন করা হয়েছে। এতে বৈজ্ঞানিক সেমিনার, র‍্যালী ও রোগীদের রক্তচাপ মাপাসহ নানা সচেতনতামূলক কর্মসূচী পালন করা হয়। 

শুক্রবার (১৭ মে) সকাল সাড়ে আটটা থেকে দুপুর সাড়ে বারোটা পর্যন্ত এ কর্মসূচী চলে। এতে বক্তারা বলেন, খাবারে অতিরিক্ত লবণ নেওয়ার ফলে আমাদের দেশে নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ বাড়ছে। বর্তমানে বয়স্কদের মধ্যেই এ সমস্যা বেশি দেখা দিচ্ছে। আমাদের দেশের পুরুষদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। আর বেশি লবণ নেওয়ার দিক থেকে পুরুষরা এগিয়ে, নারীরা দ্বিতীয়। অসচেতনতায় এর জন্য দায়ী। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিয়োলজি বিভাগ আয়োজিত এ বৈজ্ঞানিক সেমিনারে চিকিৎসক, নার্স,  শিক্ষার্থী, বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। 

এতে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করেন, চমেক হাসপাতালের কার্ডিয়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আনিসুল আউয়াল। তিনি বলেন, উচ্চ সোডিয়ামের মাত্রা শরীরে আরও বেশি জল ধরে রাখে, যার ফলে রক্তপ্রবাহে রক্তের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এটি রক্তনালীতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে রক্তচাপ বেড়ে যায়। এছাড়াও অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের ফলে রক্তনালীগুলি কম নমনীয় এবং আরও শক্ত হয়ে যেতে পারে, যা উচ্চ রক্তচাপের কারণ হতে পারে। শক্ত ধমনীগুলি রক্তের সুষ্ঠু প্রবাহকে কঠিন করে তোলে, যার ফলে রক্তনালীর দেয়ালে চাপ বৃদ্ধি পায়। উচ্চ রক্তচাপের ব্যাপারে আমাদেরকে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। 

বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় কার্ডিয়োলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. কাজী শামীম আল মামুন বলেন, সঠিকভাবে রক্তচাপ না মাপলে কখনও রোগী সুস্থ হবে না। এজন্য সঠিকভাবে রক্তচাপ মাপা জরুরী। রোগীকে অবশ্যই বিশ্রাম অবস্থায় রক্তচাপ মাপতে হবে। কখনও কাজ করা, বা হাঁটার পর রক্তচাপ মাপা যাবে না। এতে রক্তচাপের সংখ্যা ভুল আসতে পারে। ফলে বিপরীত ক্রীয়া সৃষ্টি হবে। উচ্চ রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণ করে দীর্ঘজীবী হতে হবে। 

জানা যায় এবার "সঠিকভাবে রক্তচাপ মাপুন, রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণ করুন, দীর্ঘজীবী হউন" এই স্লোগানেই বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস পালন করা হচ্ছে। সারাদেশের মতো চট্টগ্রাম মেডিকেলের কার্ডিয়োলজি বিভাগ দিবসটি উপলক্ষে বৈজ্ঞানিক সেমিনার, র‍্যালি, ব্লাড প্রেশার স্ক্রিনিং প্রোগ্রামের আয়োজন করে। 

সকাল সাড়ে আটটা থেকে মেডিকেল কলেজের একাডেমিক ভবনের কনফারেন্স হলে বৈজ্ঞানিক সেমিনার শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, বিশেষ অতিথি ছিলেন, চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল প্রফেসর ডা. মো. আব্দুর রব, নিউরোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. মো. হাসানুজ্জামান, মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. এম এ সাত্তার, নেপ্রোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. মো. নুরুল হুদা, এতে চেয়ারপার্সন ছিলেন, কার্ডিয়োলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এসোসিয়েট প্রফেসর ডা. মো. নুর উদ্দিন তারেক। এতে মডারেটর ছিলেন, একই বিভাগের এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ খোরশেদ আলম। আর অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন, কার্ডিয়োলজি বিভাগের এসোসিয়েট প্রফেসর চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল টেকনোলজির ডিন ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম চৌধুরী। 

বৈজ্ঞাানিক সেমিনার শেষে একটি র‍্যালী বের করা হয়। এতে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। র‍্যালীটি হাসপাতালের বিভিন্ন পয়েন্ট প্রদক্ষিণ করে পরে একাডেমিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। এরপর কার্ডিয়োলজি বিভাগে রোগীদের নিয়ে একটি ব্লাড প্রেশার স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়। এতে বহু রোগীর ব্লাড প্রেশার মাপা হয় এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়।

এম 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।