গণতন্ত্রের জন্য স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের গুরুত্ব তুলে ধরে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে এবং রাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে তুলে ধরতে গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রাষ্ট্রের সব কার্যক্রম আয়নার মতো জনগণের সামনে তুলে ধরা গণমাধ্যমের দায়িত্ব, আর গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং গণমাধ্যমকে আরও স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও সময়োপযোগী করতে প্রয়োজনীয় সংস্কারও করা হবে।
শুক্রবার দুপুরে বগুড়া শহরের করতোয়া কনভেনশন সেন্টারে বগুড়া জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের আয়োজনে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে রাজশাহী বিভাগের সাংবাদিকদের মধ্যে আর্থিক অনুদান এবং সাংবাদিক পরিবারের মেধাবী সন্তানদের মধ্যে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রে জবাবদিহি থাকলে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার এমন পরিস্থিতিতে পড়ত না। আমরা জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চাই। সব সম্প্রচার মাধ্যমে মূল্যবোধভিত্তিক প্রচারণা জোরদার করার জন্য প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দিয়েছেন।”
সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, রাষ্ট্রীয়ভাবে সাংবাদিকদের দেওয়া অর্থ কোনো অনুদান নয়, এটি তাঁদের প্রাপ্য। গত ১৭ বছরে সাংবাদিকেরা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কলম দিয়ে লড়াই করেছেন এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এ কারণে সাংবাদিকদের জন্য নেওয়া এসব উদ্যোগকে তিনি গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সাংবাদিকতা এমন একটি জ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তিক পেশা, যা দিয়ে সাধারণত বিত্তবান হওয়া যায় না। তাই এ পেশায় নিয়োজিত মানুষদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। এ লক্ষ্যেই সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ১৭ বছরে বগুড়াকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বঞ্চিত করা হয়েছে। বগুড়াবাসীর যেসব অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, সেগুলো তালিকা করে পর্যায়ক্রমে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। বগুড়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ টেলিভিশন কেন্দ্র স্থাপন এবং বগুড়া প্রেসক্লাব ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের বয়স এখনো এক মাসও পূর্ণ হয়নি। ভোটের কালিও পুরোপুরি শুকায়নি। তবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে জনগণের কল্যাণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে, কৃষক কার্ড চালুর কার্যক্রম চলছে এবং কৃষিঋণ মওকুফের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের কোনো সংসদ সদস্য সরকারি গাড়ি বা প্লট নেবেন না।
বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির (বাছির জামাল)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান (রুমন)। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম (বাদশা), বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান, সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ, দৈনিক করতোয়ার সম্পাদক মোজাম্মেল হক (লালু), জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান এবং সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার সভাপতি গণেশ দাস।
অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগের ৫১ জন সাংবাদিককে আর্থিক সহায়তা এবং ৪৬ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তির চেক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সাঈদ।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।