দক্ষিণ পূর্ব

চট্টগ্রামে ৫ ঘন্টা পর শেষ হলো গণধিকার পরিষদের বিক্ষোভ

mainulislam
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৫
পঠিত :
চট্টগ্রামে ৫ ঘন্টা পর শেষ হলো গণধিকার পরিষদের বিক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিবেদক:

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ঢাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর সেনা-পুলিশের হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম মহানগর গণ অধিকার পরিষদের ডাকা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচী পাঁচ ঘন্টা পর শেষ হয়েছে। শনিবার বিকাল চারটার দিকে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা কর্মসূচী শেষ করে সড়ক ছাড়েন। এর আগে দুপুর দুইটায় তারা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। এতে গণঅধিকার পরিষদ, যুব অধিকার ও ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। তাদের সাথে একাত্মতা পোষণ করে যোগ দেয় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, আপ বাংলাদেশ, যুবশক্তি, এনসিপিসহ জুলাই আন্দোলনে পক্ষের সংগঠনগুলো।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর ২টার দিকে সিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ের সামনের মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে সহস্রাধিক ছাত্র-জনতা। নুরের ছবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড ও লাঠি হাতে নিয়ে তারা স্লোগান দিতে থাকে। উই ওয়ান্ট জাসিস্ট, নুরের উপর হামলা কেন, জবাব চাই দিতে হবে, দিনাজপুরে হামলা কেন, ক্ষমতা না জনতা, জনতা, জনতা, আপা গেছে যেই পথে, জাপা যাবে সেই পথে ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে। একইসাথে তারা হ্যাণ্ডমাইকে সিএমপির কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া জানাতে থাকে।
এসময় গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য জসিম উদ্দিন আকাশ বলেন, অতি দ্রুত ঢাকায় নুরের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। স্বৈরাচারের দোসরদের গ্রেফতার করতে হবে। নগরের বিভিন্ন থানায় বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদসহ ফ্যাসিবাদ বিরোধী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করা হচ্ছে অভিযোগ করে বক্তরা বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের সাথে যথাযথ সম্মান দিয়ে কথা বলতে হবে। আওয়ামী লীগের আসামিদের গ্রেপ্তার করতে হবে। জুলাই মাসে হওয়া মামলাগুলোর তদন্ত রিপোর্ট দিতে হবে। এসময় পুলিশের পক্ষ থেকে সিএমপির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে সব ধরনের সহযোগিতা ও ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। এতে সন্তুষ্টি  প্রকাশ করলেও দ্রুত হামলার বিচার চান গণঅধিকারের কর্মীরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম মহানগর গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসুফসহ অন্যান্যরা। 
বক্তারা আরও বলেন, দেশে নির্বাচনী রোড়ম্যাপ ঘোষণার সাথে সাথে আওয়ামী লীগ তৎপর হয়ে ওঠেছে। জাপাকে দিয়ে তারা মাঠে ম্যাচাকার করতে চাইছে। এজন্য পরিকল্পিতভাবে নুরের উপর হামলা করেছে। গতকালের হামলায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী ছিল। কারা হামলা করেছে তা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে। গণঅভ্যুত্থানের পরে এটি অত্যন্ত জঘন্য ও অনাকঙ্খিত হামলা। সেনাবাহিনী যেই বিবৃতি দিয়েছে সেখানে কোন দু:খপ্রকাশ দূরে থাক উল্টো তাদেরকে হামলা করতে হয়েছে বলে সাফাই গাইছে তারা। এসময় বক্তারা আওয়ামী লীগের সহচর জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধের দাবি জানান। 
এর আগে শনিবার বেলা দেড়টার দিকে দুই নম্বর গেইট থেকে বিশাল মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা দামপাড়াস্থ সিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে আসে। এরপর প্রধান ফটক ঘেরাও করে তারা বিক্ষোভ চালিয়ে নেয়। ওই মিছিলে সহস্রাধিক নারী-পুরুষ নেতাকর্মী অংশ নেন। 
জানা যায়, পূর্বঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে শনিবার বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে নেতাকর্মীরা প্রথমে নগরের দুই নম্বর গেইট এলাকায় সড়ক অবরোধ করে। এতে কয়েকশ নেতাকর্মী অংশ নেন। ওইসময় নেতাকর্মীরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে।  ধীরে ধীরে লোকসংখ্যা বাড়তে থাকলে তারা সড়ক অবরোধ করে ব্লকেড কর্মসূচী পালন করে। এতে নগরের মূল সড়কের উভয় লেনে দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়। তাদের সাথে একাত্মতা পোষণ করে আপ বাংলাদেশ, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, যুবশক্তি, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ, বিএনপি, জামায়াত, শিবির, এনসিপি, গণ অধিকার পরিষদের অঙ্গ সংগঠন যুব অধিকার পরিষদ, ছাত্র অধিকার পরিষদসহ ফ্যাসিবাদ বিরোধী দল ও সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ব্যানারে অংশ নিয়েছেন। 
গণ অধিকার পরিষদের চট্টগ্রাম মহানগর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, আমরা দাবিগুলো পুলিশের কাছে তুলে ধরে পাঁচ ঘন্টা পর বিকাল চারটার দিকে আমাদের কর্মসূচী সমাপ্ত করি। 

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলাম জানান, গণ অধিকার পরিষদ, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন আমাদেরকে বিভিন্ন দাবি জানিয়েছে। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে থানায় তাদেরকে অসম্মান না করা এবং অধিকতর সম্মান দেওয়া, জুলাইয়ের মামলাগুলোর আসামিদের গ্রেপ্তার করা। আমরা সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব বলে তাদের জানিয়েছি।

এম

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।