দক্ষিণ পূর্ব

চট্টগ্রামের ১ আসনেই বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের আভাস

sathi
প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০২৫
পঠিত :
চট্টগ্রামের ১ আসনেই বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের আভাস
আবু রুহামা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ২৩টি আসনের মধ্যে ১৬টিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছিলো বিএনপি। আর এই ঘোষণার পর অর্ধেকের বেশি আসনে পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে অন্য মনোনয়ন প্রার্থীরা। এরমধ্যে ৭-৮টি আসনে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন এই মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। তারা প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে হাইকমান্ড বরাবর রিভিউও দিয়েছেন। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মাত্র একটি আসনেই চূড়ান্ত প্রার্থী পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। এনিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ। এরমধ্যে বেশ কয়েকজন ইতিমধ্যে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

জানা যায়, বিএনপির গত ৩ নভেম্বর ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনটিই ছিলো সবচেয়ে বড় চমকের। সেখানে প্রভাবশালী নেতা আসলাম চৌধুরীর পরিবর্তে তার এক সময়ের অনুসারী বলে পরিচিত কাজী সালাহউদ্দিনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। আর এই ঘোষণার পর থেকে আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। আসলামকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে রাস্তা অবরোধসহ টানা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। আসলামও জানিয়েছেন, যেভাবেই হোক নির্বাচন করবেন তিনি। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক এই যুগ্ম মহাসচিবকে ধানের শীষের মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে। চলতি মাসের শেষের দিকে বাকি ৭টি আসনের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেওয়া হবে দক্ষিণপূর্বকে জানিয়েছেন বিএনপির কয়েকটি বিশ্বস্ত সূত্র।

এদিকে সীতাকুণ্ড ছাড়াও উখিয়া-টেকনাফ, আনোয়ারা-কর্ণফুলী, ফটিকছড়ি, বাঁশখালী, পটিয়া, হাটহাজারী, মিরসরাই ও বান্দরবান আসনের প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে চলছে আন্দোলন। তবে সেসব আসনে আর কোন পরিবর্তন হচ্ছে না বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক বিএনপির কেন্দ্রীয়  কমিটির এক নেতা জানান, ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে কেবল সীতাকুণ্ড আসনে কাজী সালাহউদ্দিনের জায়গায় আসলাম চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে স্থায়ী কমিটিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে। আপাতত আর কোন আসনে পরিবর্তন হচ্ছে না।

বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম অঞ্চলের ২৩টি আসনের মধ্যে বাকি ৭আসনের জন্যও প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে মোস্তফা কামাল পাশা, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) গিয়াস কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৯ (বাকলিয়া-চকবাজার) আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর) ইসরাফিল খসরু, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) নাজমুল মোস্তাফা ও কক্সবাজার-২ (কুতুবদিয়া-মহেশখালী) আসনে আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ। আর চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনটি এলডিপি নেতা কর্নেল (অব.) অলির ছেলে ওমর ফারুকের  জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে মনোনয়ন প্রত্যাশী কয়েকজন প্রার্থীর সমর্থকরা চালিয়ে যাচ্ছেন আন্দোলন। এদের মধ্যে বাঁশখালীতে লেয়াকত আলী, পটিয়ায় সাবেক এমপি শাহজাহান জুয়েল, উখিয়া-টেকনাফে এম আব্দুল্লাহসহ কয়েকটি আসনে মনোনয়ন বঞ্চিতরা বিদ্রোহী প্রার্থী হচ্ছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে। বাঁশখালী আসনের হেভিওয়েট নেতা লিয়াকত আলী এরমধ্যে স্বতন্ত্র নির্বাচন করার ঘোষণাও দিয়েছেন। সীতাকুণ্ড আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করে আসলাম চৌধুরী চৌধুরীকে দেওয়া হলে বর্তমান প্রার্থী কাজী সালাহউদ্দিনও হতে পারেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। 

জানা যায়, বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত দুঃসময়ের নেতাদেরকে অন্যভাবে মূল্যায়ন করার চিন্তা করেছে হাইকমান্ড। এরমধ্যে চট্টগ্রাম-৯ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী আবুল হাশেম বক্করকে  সভাপতি ও চট্টগ্রাম-১১ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী নাজিমুর রহমানকে সেক্রেটারি করে মহানগর বিএনপির কমিটি পুনর্গঠন করার সম্ভাবনা রয়েছে। নাজিমুর রহমান বর্তমান কমিটির সদস্য সচিব। আর আহবায়ক এরশাদ উল্লাহ চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে ধানের শীষের প্রার্থী।

এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে কমিটি নেই চট্টগ্রাম উত্তর জেলায়। নির্বাচনের আগে এই ইউনিটে দেওয়া হতে পারে আংশিক কমিটি। কমিটির শীর্ষ পদ পেতে পারেন মিরসরাই আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী মোহাম্মদ নুরুল আমিন, ফটিকছড়ির কর্নেল (অব.) আজিমুল্লাহ বাহার চৌধুরী, সন্দ্বীপের ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন।

তবে এই বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম দক্ষিণপূর্বকে বলেন, আপাতত নির্বাচনের আগে নতুন কমিটি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এখন  মনোনয়ন ও নির্বাচন নিয়েই কাজ করছি। আশা করছি, কয়েকদিনের মধ্যেই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা আপনারা পাবেন।

এদিকে, চট্টগ্রাম অঞ্চলে মাত্র একটি আসন জোট শরিকদেরকে ছেড়ে দিচ্ছে বিএনপি। এটা নিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশী শরিক নেতারাও ক্ষুদ্ধ। বিশেষ করে পটিয়ায় হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও নেজামে ইসলাম পার্টির একাংশের মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বিএনপি জোট থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। হেফাজতের ঘাঁটি বলে পরিচিত হাটহাজারী আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা নাসিরুদ্দিন মনিরও মনোনয়ন প্রত্যাশী। ওই দুই আসনেই এরমধ্যে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। বিষয়টি নিয়ে বিএনপি জোটে থাকা ইসলামী দল দুইটির নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ। সন্দ্বীপে এনসিপি থেকে সাবেক সেনাকর্মকর্তা জেনারেল (অব.) হাসান সোহরাওয়ার্দীও মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। 

মনোনয়ন প্রত্যাশী হাটহাজারী উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনির দক্ষিণপূর্বকে বলেন, হাটহাজারী আলেম উলামাদের ঘাঁটি। আমি আলেমদের একজন প্রতিনিধি হিসেবে এই আসন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। আর আমি বিএনপি জোটের শরিক জমিয়ত উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব। আমি ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে দীর্ঘদিন কারাগারেও ছিলাম। এক্ষেত্রে বিএনপির উচিত ছিলো আসনটি আমাদেরকে ছেড়ে দেওয়া। কিন্তু তারা সেটা করেননি। বিষয়টি নিয়ে আলেম উলামা তৌহিদী জনতা ক্ষুব্ধ। 

তিনি বলেন, আমরা মনে করি বিএনপি প্রার্থীতা পরিবর্তন করে আমাকে মনোনয়ন দিবে। আর তারা জোটের মনোনয়ন না দিলেও আমি নির্বাচন করবো। যেভাবেই হোক করবো। এটাই হচ্ছে ফাইনাল কথা।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম জেলার ১০টি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা হলেন চট্টগ্রাম-১ নুরুল আমিন চেয়ারম্যান। চট্টগ্রাম-২ সরওয়ার আলমগীর। চট্টগ্রাম-৪ কাজী সালাউদ্দিন। চট্টগ্রাম-৫ ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। চট্টগ্রাম-৭ হুম্মাম কাদের চৌধুরী। চট্টগ্রাম-৮ এরশাদ উল্লাহ। চট্টগ্রাম-১০ আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। চট্টগ্রাম-১১ এনামুল হক এনাম। চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) সরওয়ার নিজাম। পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়িতে ওয়াদুদ ভুঁইয়া, বান্দরবানে সাচিং প্রু জেরি ও রাঙামাটিতে দিপেন তালুকদার বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন। আর কক্সবাজারের চকরিয়া-পেকুয়ায় সালাহউদ্দিন আহমেদ, উখিয়া টেকনাফে শাহজাহান চৌধুরী ও সদর আসনে লুৎফুজ্জামান কাজল ধানের শীষের চূড়ান্ত প্রার্থী।

এমএইচএফ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।