দক্ষিণ পূর্ব

চট্টগ্রামে আইনজীবী সমিতির নির্বাচন জামায়াত ও আওয়ামীপন্থীদের ভোট বর্জন

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬
পঠিত :
চট্টগ্রামে আইনজীবী সমিতির নির্বাচন জামায়াত ও আওয়ামীপন্থীদের ভোট বর্জন

ছবি : সংগ্রহীত

নানা নাটকীয়তা, বর্জন ও বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ৯টায় সমিতির মিলনায়তনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা বিরতিহীনভাবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে।

 

তবে নির্বাচন শুরুর আগেই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরাও নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করেন।

 

সকাল ১০টার দিকে আইনজীবী ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ করেন জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা। এ সময় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। বিপরীতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী পরিষদের নেতাকর্মীরাও অবস্থান নিয়ে পাল্টা স্লোগান দেন।

 

জামায়াত সমর্থিত আইনজীবীদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন পরিকল্পিতভাবে সম্পাদকীয় প্যানেলের ৯ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেছে, যাতে একটি নির্দিষ্ট প্যানেলকে জয়ী করা যায়। নির্বাচন স্থগিত ও নির্বাচন কমিশন বাতিল চেয়ে আদালতে আবেদন করা হলেও বুধবার তা খারিজ হয়ে যায়। এ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা।

 

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীদের অভিযোগ, তাদের কোনো প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র তুলতে দেওয়া হয়নি। এ কারণে শুরু থেকেই তারা নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে আসছেন। বুধবার আদালতপাড়ায় ‘সাধারণ আইনজীবী পরিষদ’-এর ব্যানারে কালো পতাকা মিছিল ও সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন ও পুনঃতফসিল ঘোষণার দাবি জানানো হয়।

 

এদিকে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী পরিষদের নেতারা দাবি করেছেন, পূর্ণাঙ্গ প্যানেল গঠনে ব্যর্থ হয়ে জামায়াত সমর্থিত আইনজীবীরা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে।

 

সমিতির ২১টি পদের মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৯টি পদে একক প্রার্থী থাকায় এসব পদে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়নি। তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি ১২টি পদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব পদে ২৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জামায়াত সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের ১২ জন প্রার্থী বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। ফলে কার্যত বিএনপিপন্থী প্রার্থীরাই নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের মধ্যেও তেমন উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল।

আর এইচ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।