দক্ষিণ পূর্ব

চট্টগ্রামে এবি পার্টির নেতাকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের অভিযোগ

sathi
sathi
প্রকাশ : ৯ মে ২০২৫ ০১:৩৩ দুপুর
পঠিত : ৪
চট্টগ্রামে এবি পার্টির নেতাকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের অভিযোগ
Degchibarictg
দক্ষিণপূর্ব ডেস্ক 

সম্পূর্ণ নির্দোষ হওয়া সত্ত্বেও চট্টগ্রামের এবি পার্টির নেতা সাইফুল ইসলামকে (৪৩) জুলাই সহিংসতায় জড়িত থাকার মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার দল। শুক্রবার বিকেলে নগরের বাকলিয়া থানা পুলিশ সাইফুলকে আদালতে হাজির করলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। এবি পার্টির দাবি, সাইফুল ইসলামের নাম মামলার এজাহারে উল্লেখ ছিল না এবং তার বিরুদ্ধে আগে কোনো মামলা বা অভিযোগও ছিল না। স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের যোগসাজশে তাকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ দলটির।

এবি পার্টির জাতীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর যুগ্ম আহ্বায়ক ছিদ্দিকুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, "সাইফুল ইসলাম একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক এবং পরিচিত সমাজকর্মী। তার নামে আগে কোনোদিন কোনো অভিযোগ পর্যন্ত ছিল না। তাকে সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।" তিনি জানান, সাইফুল ইসলাম (৪০) এবি পার্টির একজন কাউন্সিলর এবং আওয়ামী লীগ বিরোধী হিসেবেই পরিচিত।

ছিদ্দিকুর রহমান আরও বলেন, "আমরা জানতে পেরেছি, সাইফুল ইসলামকে আদালতে পাঠানোর জন্য তৈরি করা পুলিশের প্রাথমিক ফরওয়ার্ডিংয়ে তাকে প্রথমে মামলার 'এজাহারভুক্ত আসামি' হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তার আইনজীবীরা এবং আমরা প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার পর পুলিশ সেই অবস্থান থেকে সরে এসে পরে তাকে ‘তদন্তে প্রাপ্ত সন্দেহভাজন আসামি’ হিসেবে উল্লেখ করে।" এই পরিবর্তনই প্রমাণ করে যে তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

প্রসঙ্গত, বাকলিয়া থানার যে মামলায় (মামলা নং-০১, তারিখ-০১/১১/২০২৪) সাইফুলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, সেই মামলার পুলিশের আদালতে জমা দেওয়া ফরওয়ার্ডিং লেটারের  শুরুতেই সাইফুল ইসলামকে "এজাহারনামীয় গ্রেফতারকৃত আসামী" হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে । তবে, একই নথির পরবর্তী অংশে তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন যে, ০৯/০৫/২০২৫ তারিখে সাইফুল ইসলামকে ‘তদন্তেপ্রাপ্ত সন্দিগ্ধ আসামী’ হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয় । পুলিশের এই নথিতে আরও বলা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সক্রিয়কর্মী এবং বিভিন্ন প্রোগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী।

এবি পার্টির অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপির নব্য নেতা হিসেবে পরিচিত ইউনুছ এবং ইরফানের যোগসাজশে বাকলিয়া থানা পুলিশ এই ন্যক্কারজনক কাজটি করেছে। ছিদ্দিকুর রহমান আরও বলেন, "মজার বিষয় হলো, এই ইরফান গত ৫ আগস্টের আগেও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ছিলেন এবং চান্দগাঁও এলাকার আওয়ামী লীগ দলীয় ওয়ার্ড কমিশনার হারুনের সাথে তার অসংখ্য ছবি রয়েছে। ক্ষমতার পালাবদলে রাতারাতি ভোল পাল্টে এখন বিএনপি নেতা সেজেছেন।"

এই বিষয়ে বাকলিয়া থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, "সাইফুল ইসলাম আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন এবং তাকে জুলাই আন্দোলনের মামলায় সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।" সাইফুল ইসলামের এবি পার্টিতে যুক্ত থাকা এবং তাকে ফাঁসানোর দাবির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ওসি বলেন, "অনেকেই আগে আওয়ামী লীগের সাথে থাকলেও এখন আওয়ামী লীগ বিরোধী বিভিন্ন দলে যোগ দিচ্ছেন, সাইফুল ইসলামও তাদের একজন হতে পারেন।" সাইফুল ইসলাম জুলাই আন্দোলনে এবি পার্টির নেতা হিসেবে ছিলেন, ছিদ্দিকুর রহমানের এমন দাবির বিষয়ে ওসি বলেন, "আমাদের কাছে প্রমাণ আছে তিনি আওয়ামী লীগ করতেন। এই সংক্রান্ত ছবি প্রয়োজনে সরবরাহ করা হবে।" তবে, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গত কয়েক ঘণ্টাতেও ওসির পক্ষ থেকে কোনো ছবি পাঠানো হয়নি।

সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাইফুল ইসলামকে হাজির করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এবি পার্টি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং অবিলম্বে সাইফুলের মুক্তি দাবি করেছে।

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।