দক্ষিণ পূর্ব

চট্টগ্রামে এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকট, ভোগান্তিতে ভোক্তারা

মনির ফয়সাল
প্রকাশ : ৯ জানুয়ারী ২০২৬
পঠিত :
চট্টগ্রামে এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকট, ভোগান্তিতে ভোক্তারা
নিজস্ব প্রতিবেদক 

দুই সপ্তাহ ধরে দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) তীব্র সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম নগরের একটিও এলপিজি সিলিন্ডার খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে বাসাবাড়িতে রান্নার কাজে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজির সিলিন্ডার নেই বললেই চলে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ভোক্তারা।

খুচরা বাজারে এই সিলিন্ডারের দাম সরকার নির্ধারণ করেছে ১ হাজার ২৫৩ টাকা, কিন্তু দুই হাজার টাকা দিয়েও একটি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বহু এলাকায়। সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে কৃত্রিম সংকট হিসেবে আখ্যায়িত করা হলেও ব্যবসায়ীরা বলেছেন, আমদানি কমে যাওয়ায় এলপিজি সংকট স্মরণকালের ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরের হাজার হাজার বাসা বাড়িতে এলপিজি ব্যবহৃত হয়। শত শত বহুতল ভবনে এলপিজি’ই একমাত্র ভরসা। ১২ কেজির সিলিন্ডার ব্যবহার করেই হাজার হাজার বাসা বাড়িতে রান্নাবান্না চলে। এলপিজির অভাবে এখন এসব বাসার বাসিন্দাদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। শুধু বাসাবাড়ি নয়, বহু হোটেল রেঁস্তোরাও এলপিজি দিয়ে রান্না করে। 

বাকলিয়া এলাকার বাসিন্দা মুন্না বলেন, পুরো শহরের কত দোকানে যে গেছি তার ঠিক নেই, কিন্তু একটি সিলিন্ডারও পাইনি। শেষে কল্পলোক এলাকা থেকে দুই হাজার টাকায় একটি এলপিজি সিলিন্ডার কিনেছি।

চট্টগ্রামের একাধিক বিক্রেতা বলেছেন, আমাদের প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ সিলিন্ডারের চাহিদা, অথচ আমরা সরবরাহ পাচ্ছি ১০০ থেকে ১৫০টি। তো কি করে চাহিদা মেটাবো? এলপিজি সংকটের এই সুযোগকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে মোটা অংকের বেসাতিতে নেমেছেন কিছু বিক্রেতা। তারা সরবরাহ সংকটের সুযোগ নিয়ে দোকান থেকে এলপিজি সিলিন্ডার সরিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দাম দিয়ে গত কয়েকদিন ধরে এলপিজি বিক্রি হয়েছে। এই চক্রটি এলপিজি সংকটকে মহাসংকটে পরিণত করেছে।

এই ব্যাপারে লোয়াবের প্রেসিডেন্ট আমিরুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কয়েকটি কোম্পানি আমদানি করতে না পারায় ডিসেম্বরে আমদানি প্রায় ৪০ শতাংশ কমে যায়। নতুন করে কিছু কোম্পানি বটলিং ক্যাপাসিটি বৃদ্ধির আবেদন করলেও সরকার অনুমোদন দিচ্ছে না। এতে করে সংকট তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, এলপিজি আমদানিকারকেরা বিইআরসি–নির্ধারিত দামে ডিলারদের সরবরাহ করছে। তবে খুচরা ব্যবসায়ীরা সরবরাহ সংকটকে পুঁজি করে কিছু করলে সেটা নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না। আমিরুল হক বলেন, এখন সরকার অনুমতি দিয়েছে। আগামী ১০–১৫ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ সংকটের বিষয়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, এলপিজি ব্যবসায়ীদের বক্তব্য গতানুগতিক। এখন ব্যবসায়ীর অপর নাম মানুষকে জিম্মি করে পকেট কাটা। আমদানি কম হলে সেটা ১ মাস আগে জানানোর কথা। কারন এলপিজি দেশে আসতে সময় লাগে কমপক্ষে ১ মাস। হঠাৎ শীত প্রকট হলে লাইনের গ্যাসে সংকট দেখা দিলে এলপিজির চাহিদা বাড়ার সংগে সংগেই বাজার থেকে সিলিন্ডার উদাও, বিষয়টিতে পরিস্কার এখানে আমদানিকারক, তাদের ডিস্ট্রিবিউটর ও পাইকারী-খুচরা বিক্রেতাদের কারসাজি আছে। আবার ভোক্তা অধিদপ্তর, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা যখন এনার্জি রেগুলেটরী কমিশনের নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম আদায়কারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছেন, তখন তারা পালিয়ে যাচ্ছেন, দোকান বন্ধ করে দিচ্ছেন এবং সর্বশেষ ধর্মঘট করে এলপিজি বিক্রি বন্ধ রাখছেন। এটা সরকারের আইনের প্রতি পুরোপুরি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের সামিল। 

তিনি আরও বলেন, ভোক্তা অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা কালে সর্বত্রই বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইন্সেবিহীন দোকান, বেশি দামে বিক্রিসহ নানা অনিয়মের প্রমান পাওয়ার পরও তারা বলেন হয়রানি করা হচ্ছে। বিষয়টি সরকারকে বেকায়দায় ফেলানোর চক্রান্ত ছাড়া কিছুই নয়। জনগনকে জিম্মি করে মানুষের পকেট কাটা ও মুনাফা লাভের অপচেষ্টা ছাড়া কিছুই নয়।

এমএইচএফ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।