চট্টগ্রামে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ওয়ার্ল্ড মেরিটাইম ডে-২০২৬ এবং বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।
এবারের ওয়ার্ল্ড মেরিটাইম ডে-এর প্রতিপাদ্য—“From Policy to Practice: Powering Maritime Excellence”। সামুদ্রিক নীতিমালা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিরাপদ, দক্ষ, টেকসই ও উৎকর্ষমুখী মেরিটাইম খাত গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবারের প্রতিপাদ্যে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের জুলদিয়ায় কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থিত বাংলাদেশ মেরিন একাডেমিতে দিবসটি উপলক্ষে গার্ড অব অনার, প্যারেড পরিদর্শন, র্যালি, বেলুন উড়ানো, বৃক্ষরোপণ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের বিশাল সামুদ্রিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে শুধু সমুদ্রগামী নাবিক তৈরির মধ্যে কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। শিপ ম্যানেজমেন্ট, বন্দর পরিচালনা, জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত, জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ, মেরিন ইনস্যুরেন্সসহ বিভিন্ন শোর-বেইজড মেরিটাইম সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে সমন্বিত সামুদ্রিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে।
তারা বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ, আধুনিক প্রযুক্তি, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক মেরিটাইম কনভেনশনের কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরের সম্ভাবনাকে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, এমপি এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া।
এ সময় ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, মেরিটাইম খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তি, সরকারি কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ক্যাডেট ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট ক্যাপ্টেন কাজী এবিএম শামীম স্বাগত বক্তব্যে বলেন, “নীতি থেকে বাস্তবায়ন এবং সম্ভাবনা থেকে উৎকর্ষের পথে এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যমেই বাংলাদেশের সামুদ্রিক সম্ভাবনাকে টেকসই অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব।”
তিনি দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, নিরাপদ নেভিগেশন ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি আন্তর্জাতিক মানের মেরিটাইম শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (IMO)-এর STCW মানদণ্ড অনুসরণ করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাংলাদেশ ২০০০ সাল থেকে IMO-এর ‘হোয়াইট লিস্টে’ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
একাডেমির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৩ হাজারের বেশি মেরিনার বর্তমানে দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ ও বিভিন্ন মেরিটাইম প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া নারী ক্যাডেটদের অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় ১২৫ জনের বেশি নারী মেরিনার প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজে দায়িত্ব পালন করছেন।
দীর্ঘ পথচলায় আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির পাশাপাশি দেশের ব্লু ইকোনমি, আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও সামুদ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি।
আর/ দক্ষিণপূর্ব
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।