দক্ষিণ পূর্ব

চিকিৎসাসেবার উন্নয়নে রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে: ডা. শাহাদাত

দক্ষিণপূর্ব
দক্ষিণপূর্ব
প্রকাশ : ৮ নভেম্বর ২০২৬ ০৮:০০ সকাল
পঠিত : ৪০
চিকিৎসাসেবার উন্নয়নে রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে: ডা. শাহাদাত

ছবি

Degchibarictg

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজনের পাশাপাশি মেধা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেছেন, সরকার পরিবর্তন হলেও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন যেন থেমে না যায়। চিকিৎসাসেবা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমকে রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে কোনো মেধাবী ও যোগ্য চিকিৎসক যেন বৈষম্যের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক শাহাদাত হোসেন মেমোরিয়াল হলে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন, চমেক হাসপাতালের (পিজিটিডিএ) উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসাসেবার উন্নয়নে একটি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর প্রদান করা হয়।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের সংযোজন অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের জীবন রক্ষায় অক্সিজেন কনসেনট্রেটরের মতো প্রয়োজনীয় যন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পিজিটিডিএর এ উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এ ধরনের উদ্যোগ শুধু একটি বিভাগে সীমাবদ্ধ না রেখে হাসপাতালের অন্যান্য বিভাগেও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, চিকিৎসা খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি চিকিৎসক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠন ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসতে হবে। মানুষের কল্যাণে প্রত্যেকেরই নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে এ প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাঁর বিশেষ আবেগ ও দায়বদ্ধতা রয়েছে।

নিজের পেশাগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বলেন, প্রায় ২৫-২৬ বছর আগে ব্যাঙ্গালোর থেকে প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে চট্টগ্রামে আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি ও ডায়াগনস্টিক সরঞ্জাম সংযোজনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। ইলেকট্রোমায়োগ্রাম (ইএমজি), নার্ভ কন্ডাকশন ভেলোসিটি ও বিভিন্ন নিউরোফিজিওলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রযুক্তি চট্টগ্রামে পরিচিত করার ক্ষেত্রে কাজ করেছেন। রোগ নির্ণয়ে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার চিকিৎসার নির্ভুলতা বাড়ায়। তাই চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।

রাজনৈতিক সম্প্রীতি ও মেধার মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বন্ধ হয়ে যাওয়া উচিত নয়। কোনো সরকারের সময় নেওয়া ভালো উদ্যোগ পরবর্তী সরকার এসে বন্ধ করে দেবে—এমন মানসিকতা পরিহার করতে হবে। রাজনৈতিক মতাদর্শ যা-ই হোক, একজন চিকিৎসকের যোগ্যতা, দক্ষতা ও মেধাই তাঁর মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি হওয়া উচিত। পরমতসহিষ্ণুতা, গণতান্ত্রিক অধিকার ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

চমেক হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখার বিষয়ে ডা. শাহাদাত বলেন, হাসপাতালের ডায়ালাইসিস সেবাসহ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম যাতে কোনো কারণে ব্যাহত না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা এবং হাসপাতালের নিজস্ব অর্থায়নের সমন্বয়ে এসব সেবা দীর্ঘমেয়াদে চালু রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি হাসপাতাল শুধু চিকিৎসাসেবার মান দিয়ে নয়, এর সার্বিক পরিবেশ দিয়েও পরিচিত হয়। রোগী ও স্বজনদের নির্বিঘ্ন চলাচল, পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে তিনি ব্যক্তিগতভাবেও নিয়মিত তদারকি করেন। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা যথাসময়ে দায়িত্ব পালন করছেন কি না, তা পর্যবেক্ষণ করেন।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের ফুটপাত ও চলাচলের জায়গা দখল করে দোকান বসানো কোনোভাবেই কাম্য নয়। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম টেকসই করতে নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। রোগী, চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে পিজিটিডিএর উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, চিকিৎসকদের দায়িত্ব শুধু রোগীর চিকিৎসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। হাসপাতালের পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা ও সামগ্রিক সেবার মান উন্নয়নেও তাঁদের ভূমিকা রাখতে হবে। একটি বিভাগে ভালো উদ্যোগ ও দৃষ্টান্ত তৈরি করা গেলে তা পর্যায়ক্রমে পুরো হাসপাতালে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।

পিজিটিডিএ চমেক হাসপাতালের সভাপতি ডা. তানভীর হাবীব তান্নার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ডা. মোনায়েম ফরহাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. তসলিম উদ্দিন, ড্যাব চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডা. তমিজ উদ্দিন আহমেদ, ড্যাব চমেক শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়েজুর রহমান, ড্যাব চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালী এবং ড্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ডা. ইফতেখারুল ইসলাম।

এ সময় চমেক শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুছা মিঞা, সহযোগী অধ্যাপক ডা. আসমা ফেরদৌসী, ডা. কামরুন্নাহার লুনা, ডা. সেলিনা হক ও ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন; নেফ্রোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মাহতাব উল ইসলামসহ হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরএইচ 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।