দক্ষিণ পূর্ব

চট্টগ্রামে কনসার্টের আড়ালে শেখ হাসিনার কোরাস,নেপথ্যে একটি শিল্প গ্রুপ!

sathi
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৫
পঠিত :
চট্টগ্রামে কনসার্টের আড়ালে শেখ হাসিনার কোরাস,নেপথ্যে একটি শিল্প গ্রুপ!
নিজস্ব প্রতিবেদক 
চট্টগ্রাম নগরের জিইসি কনভেনশন সেন্টারে কনসার্টে জয় বাংলা, শেখ হাসিনা স্লোগান দেয়া নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে মারামারি ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের পাঁচ নেতাকর্মীসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অনুমতি না নিয়ে ওই কনসার্টের আয়োজন করা হয়।চট্টগ্রাম ভিত্তিক একটি শিল্প গ্রুপ পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে এই অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে বলে জানিয়েছেন কয়েকটি সূত্র। 

এদিকে রোববার (১২ অক্টোবর) সকালে খুলশী থানায় এসআই (নিরস্ত্র) রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ১০ জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে আটক দেখানো হয়েছে।

আটককৃতদের ৫ জন আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। আর ৫ জন আয়োজক কমিটির সদস্য। আটককৃতরা হলেন- আওয়ামী লীগ নেতা নুর এলাহী ফারুক (৫০), ছাত্রলীগ কর্মী আয়মান মুরাদ ফারদিন (১৮), শহিদুল ইসলাম সানি (২৪), সাব্বির হোসেন (২৭) ও তাসলিমুল ইসলাম ইফাজ (১৮)। এছাড়া আয়োজক কমিটির বাকি ৫ সদস্য হলেন- নাজমুল হোসাইন, সালমান আহমেদ অভিন, আলেক খন্দকার, জাকির হোসেন, ও নূরে আলম সিদ্দিকী। 

জানা যায়,শনিবার রাতে মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হোন্ডার আয়োজনে নগরের জিইসি কনভেনশন সেন্টারে ‘ফান অ্যান্ড রক ফেস্ট’ নামের এই  কনসার্টের আয়োজন করা হয়। সেই কনভেনশন সেন্টারটি আওয়ামী লীগ ঘরনার ব্যবসায়ী নেতা সুফি মিজানের পিএইসপি গ্রুপের মালিকানাধীন। হঠাৎ সেই কনসার্টে এমইএস কলেজের ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী  জয় বাংলা ও শেখ হাসিনা স্লোগান দিতে থাকেন।অনেকে তা মোবাইল ফোনে ভিডিও করেন। তাদের সাথে স্থানীয় কিশোর গ্যাং সদস্যরাও যোগ দেন।একপর্যায়ে  সেখানে উপস্থিত জনতা ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বাধা দিলে সংঘর্ষ  শুরু হয়।পরবর্তীতে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।আর কনসার্ট পণ্ড হয়ে যায়।এসময় গুলিতে  ছাত্রদল কর্মী নাজির শরীফ (২৩) আহত হয়। এছাড়া ছাত্রদল নেতা রাজু আহমেদ ও মোহাম্মদ হোসেন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি পক্ষ কনভেনশন সেন্টারের মূল ফটক ভাঙচুর করার চেষ্টা করছে। এ সময় ভেতরে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি ছোড়েন। খবর পেয়ে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হলের সামনে জড়ো হন।

মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, কনসার্ট চলাকালে একটি পক্ষ সেখানে জয় বাংলা স্লোগান দেয়। স্লোগান দেয়া ব্যক্তিরা ছাত্রলীগের কর্মী। এ নিয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদ করেন। এরপর দুপক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি করে। 


চট্টগ্রাম নগর ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক আরিফুল হক মিঠু  জানান, কনসার্টে জয় বাংলা স্লোগান দেওয়া হলে সাধারণ জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিবাদ গড়ে তোলার চেষ্টা করে।পরবর্তীতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।এর বেশি কিছু আমি জানি না। 

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) শ্রীমা চাকমা বলেন, “হোন্ডা আয়োজিত এই কনসার্টের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অনুমতি নেয়া হয়নি। কিছু  যুবক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার জন্য কনসার্টে এসেছিল। পুলিশ এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে এবং ১০ জনকে আটক করেছে।

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।