দক্ষিণ পূর্ব

চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর সফর আগামীকাল; চলচে রাস্তা-ঘাটের সাজসজ্জা, বরণের অপেক্ষায় নেতা-কর্মী

দক্ষিণপূর্ব ডেস্ক
প্রকাশ : ৮ আগস্ট ২০২৬
পঠিত :
চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর সফর আগামীকাল; চলচে রাস্তা-ঘাটের সাজসজ্জা, বরণের অপেক্ষায় নেতা-কর্মী

প্রতিনিধি

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফর ঘিরে নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় চলছে সাজসজ্জা ও প্রস্তুতির কাজ। আগামীকাল ৯ আগস্ট তাঁর সফর উপলক্ষে বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতে প্রশাসন ও দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যস্ততা বেড়েছে।

 

সফরকালে তারেক রহমান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও ঘরহারা পরিবারের মধ্যে নতুন ঘরের চাবি ও আর্থিক সহায়তা বিতরণ করবেন। পাশাপাশি হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং দলীয় সাংগঠনিক সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

 

জেলা প্রশাসন ও বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ৯ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে হেলিকপ্টারে করে বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছাবেন তারেক রহমান। সেখানে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০টি ঘরহারা পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি ও ত্রাণসামগ্রী তুলে দেবেন তিনি।

 

এরপর দুপুর ১টার দিকে তিনি ফটিকছড়ির আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় যাবেন। সেখানে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।

 

বিকেলে হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় গিয়ে মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন তারেক রহমান। পরে জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় সংক্ষিপ্ত বিরতি শেষে হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

 

ওই অনুষ্ঠানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩০টি পরিবারকে ঘর নির্মাণের জন্য ১ লাখ টাকা করে এবং ১৫ জন প্রতিবন্ধীকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে। এসব অর্থ ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে।

 

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নির্মিত প্রতিটি টিনের ঘরে দুটি কক্ষ থাকবে। প্রতিটি ঘরের দৈর্ঘ্য ১৮ ফুট ও প্রস্থ ১২ ফুট। এর সঙ্গে থাকবে ৫ ফুট বাই ৫ ফুটের একটি সংযুক্ত শৌচাগার।

 

তারেক রহমানের সফর ঘিরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বাঁশখালীর পুনর্বাসন প্রকল্প, হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠ, জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ফটিকছড়ির অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় নিরাপত্তা, মঞ্চ নির্মাণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

 

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিতে চট্টগ্রামে আসছেন। তাঁর সফর নির্বিঘ্ন ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসনের পুরো দল কাজ করছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, ইউএনও, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

 

এদিকে শনিবার ফটিকছড়ির বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। আগাছা অপসারণ, ফুটপাত দখলমুক্ত করা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। পাইন্দং ইউনিয়নের পেলাগাজীর দিঘী সিএনবি মাঠে হেলিপ্যাড নির্মাণের কাজও শেষ পর্যায়ে। সাজসজ্জার অংশ হিসেবে রঙের সাজে সাজানো হয়েছে হালদা নতুন ব্রিজ।

 

ফটিকছড়ি বাসস্ট্যান্ড, বিবিরহাট বাজার হয়ে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় প্রস্তুতির ব্যস্ততা দেখা গেছে। নতুন করে সাজানো হয়েছে বাবুনগর মাদ্রাসা। নিচে বসানো হচ্ছে লাল গালিচা। এছাড়া বাবুনগর  ও আশপাশের এলাকাতেও চলছে সাজসজ্জার কাজ।

 

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা বলেন, অবহেলিত বাঁশখালীর উন্নয়নে বন্যাদুর্গতদের জন্য টেকসই পুনর্বাসন, উপকূলীয় এলাকায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ, মেরিন ড্রাইভ সড়ক বাস্তবায়ন এবং বাঁশখালীর প্রধান সড়ক চার লেনে উন্নীত করার দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানানো হবে।

 

চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর বলেন, ফটিকছড়িবাসী প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত। তাঁর আগমন ফটিকছড়ির উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।

 

দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব লায়ন হেলাল উদ্দিন বলেন, এখানে কোনো জনসভা নেই। তবুও প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত থাকবেন। সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠান সফল করতে আমরা প্রস্তুত।

 

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে কাজ করছেন। বন্যার পর দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে বাঁশখালীতে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে, অন্যান্য উপজেলাতেও প্রয়োজন অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

 

এদিন সন্ধ্যায় নগরের পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে চট্টগ্রাম বিএনপির সাংগঠনিক সভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। রাত ৯টা ২০ মিনিটে তাঁর ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা।

 

সফরের দিন নিরাপত্তার স্বার্থে চট্টগ্রামের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।