দক্ষিণ পূর্ব

চট্টগ্রামে ফ্লেভার্স, মেরিডিয়ান ও উৎসব সুপার শপকে ৪০ লাখ টাকা জরিমানা

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
পঠিত :
চট্টগ্রামে ফ্লেভার্স, মেরিডিয়ান ও উৎসব সুপার শপকে ৪০ লাখ টাকা জরিমানা

ছবি সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরের চারটি খাদ্য প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে নানা অনিয়ম পাওয়ায় মোট ৪০ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, মেয়াদোত্তীর্ণ ও পচা-বাসি খাবার সংরক্ষণ এবং খাদ্যপণ্যের মান ও লেবেলিংয়ে অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

 

রোববার (২৩ আগস্ট) বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানায়।

 

বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত, চট্টগ্রাম মহানগরের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফার নেতৃত্বে অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

 

জরিমানা করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—ফ্লেভারস সুইটস অ্যান্ড বেকারির কারখানা, মেরিডিয়ান ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড, উৎসব সুপার শপ এবং রিও ক্যাফে-মাজায়দার।

 

আদালত সূত্র জানায়, ফ্লেভারস সুইটস অ্যান্ড বেকারির কারখানায় বেকারি পণ্য তৈরিতে নিম্নমানের ঘি ব্যবহার, পচা ও বাসি মিষ্টির উচ্ছিষ্ট সংরক্ষণ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ মিষ্টি, কেক ও বিস্কুট রাখার প্রমাণ পাওয়া যায়।

 

এ ছাড়া খাদ্যপণ্যে যথাযথ লেবেল না থাকা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে উৎপাদন, ভাঙা টাইলস, নোংরা ড্রেনেজ, অপরিষ্কার কম্বল দিয়ে দই জমানো, পোকাযুক্ত বাদাম ব্যবহার এবং অপরিচ্ছন্ন সরঞ্জামে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতের মতো অনিয়মও ধরা পড়ে। ফ্রিজারে মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার সংরক্ষণের প্রমাণও পাওয়া যায়।

 

এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ১৯ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

 

মেরিডিয়ান ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডে চিপস, নুডলস ও ম্যাংগো বারের মান নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়া যায়। কারখানায় তেলাপোকার উপস্থিতি, ম্যাংগো পাল্পের ড্রামে পোকামাকড়, ভাঙা ও তেলযুক্ত মেঝে এবং পোড়া তেল ব্যবহারের মতো অনিয়মও শনাক্ত করা হয়।

 

এসব কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়।

 

উৎসব সুপার শপে মেয়াদোত্তীর্ণ মোমো, নষ্ট মরিচ, মসলা ও চকোলেট সংরক্ষণ ও বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়। পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাংস সংরক্ষণ, আমদানিকৃত পণ্যে সঠিক লেবেল না থাকা এবং আমদানিকারকের তথ্য না থাকার বিষয়ও ধরা পড়ে।

 

এ ছাড়া নিবন্ধনবিহীন শিশুখাদ্য ও অনুমোদনহীন খাদ্য সম্পূরক বিক্রি, একই সরঞ্জামে গরু ও খাসির মাংস প্রক্রিয়াকরণ, পণ্যের পুষ্টিতথ্য ঢেকে নিজস্ব স্টিকার লাগানো এবং প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ছাড়াই আচার ও ঘরোয়া পণ্য বিক্রির অভিযোগও পাওয়া যায়।

 

এসব অনিয়মে প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

 

রিও ক্যাফে-মাজায়দারে খাদ্য তৈরির ও বিক্রির পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন থাকার পাশাপাশি পচা-বাসি খাবার সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়। কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি না মানা এবং প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও সনদ ছাড়া ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ও শনাক্ত হয়েছে।

 

এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে ১০ দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

 

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মেট্রোপলিটন নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারহান ইসলাম বলেন, অভিযানে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বেশ কিছু গুরুতর অনিয়ম পাওয়া গেছে। নিরাপদ খাদ্য আইন অনুযায়ী আদালত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন। খাদ্য ব্যবসায়ীদের স্বাস্থ্যকর পরিবেশে মানসম্মত খাবার উৎপাদন ও বিক্রিতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

 

তিনি বলেন, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। যেসব প্রতিষ্ঠানকে মানোন্নয়নের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে, পরবর্তী সময়ে সেগুলোর কার্যক্রমও নজরদারির আওতায় থাকবে।

 

আদালত ফ্লেভারস সুইটস অ্যান্ড বেকারিকে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর, মেরিডিয়ান ফুড প্রোডাক্টসকে ৬ সেপ্টেম্বর এবং উৎসব সুপার শপকে ৩০ আগস্ট সশরীরে আদালতে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

 

আরএইচ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।