রফিক হায়দার:
গত সপ্তাহে চট্টগ্রামে প্রচুর বৃষ্টি ছিলো। যার ফলে সবজির দামে এর প্রভাব পড়েছে। তবে এ সপ্তাহে বৃষ্টির পরিমাণ কম থাকায় মোটামুটি কমতে শুরু করছে সবজির দাম। কারণ শাকসবজি ও পচনশীল পণ্যের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় বাজারে এর প্রভাব পড়ছে। অনেক ধরনের সবজির দাম ১০০ ছাড়িয়েছে। যা গরিব মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের জন্য কষ্টের কারণ।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার হাটবাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, টমাটো বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়, যা গত বাজারে ছিল ১৮০, গাজর ১২০ টাকায় যা ছিল ১৬০ টাকা, শসা বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়, ঢ়েড়শ ৪০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, যা ছিল ৫০ টাকা , বরবটি ৭০-৮০ টাকা, কচুর লতি ৭০ টাকা, লাউ ৫০ টাকা, পেঁপে ২৫-৩০ টাকা, ঝিঙে ৪০ টাকা, বেগুন ১২০ টাকা, গত বাজারে ছিল ৮০ টাকা, কাকরোল ৭০ টাকা, যা গত বাজারে ছিল ৪০ টাকা, ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়।
তবে মরিচের কেজি বিক্রয় হচ্ছে ২০০-২২০ টাকায়। মিষ্টিকুমড়া প্রতিকেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা। আলু ২০-৩০ টাকার মধ্যে আছে।
পেঁয়াজ-রসুনের দাম বেড়েছে
গত সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম ছিল খুচরায় কেজি ৯০ টাকা, এ সপ্তাহে ৯৫ টাকা, দেশি রসুন ১০ টাকা বেড়ে ১৫০ টাকায়, চায়না রসুন ২০ টাকা বেড়ে ২৬০ টাকায়, চায়না আদা ৬০ টাকা বেড়ে কেজিপ্রতি ২৬০ টাকা ও ভারতীয় আদা ৪০ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ডিমের দাম বেড়েছে, মুরগী আগের মতই
চট্টগ্রামে এ সপ্তাহে ফার্মের মুরগির ডিম ডজনপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে ১৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগির ডিম ৫ টাকা বেড়ে ২৪৫ টাকা ।
মুরগী ব্যবসায়ী মেহেদী জানান, মুরগির দাম আগের মতই আছে। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগির দাম কেজিতে ৬০০ থেকে ৬২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগি ২৮০ থেকে ৩১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গরুর মাংস ও অপরিবর্তিত আছে। শুধু মাংস কেজিপ্রতি ৯৫০ টাকা, হাড্ডি মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০ টাকা বলে জানান চকবাজার গরুগোস্ত বিক্রেতা মোঃ সিরাজ।
মাছের দামে উত্থান পতন
চকবাজারে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২৫০০ টাকা, যা গত বাহারে ছিল ২৮০০ টাকা, লইট্যা মাছ বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকা, ফাইস্যা ২০০ টাকা, পোয়া ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা, কোরাল ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, রুপচান্দা ৫৫০ থেকে ৭০০-৮০০ টাকা তেলাপিয়া ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, নাইলোটিকা ২২০ থেকে ২৮০ টাকা, পাঙাশ মিলছে ২৩০ থেকে ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান চকবাজার মাছ ব্যবসায়ী রিফাত।
মুদি পণ্য আগের মতই
খুচরা বাজারে মুদিপণ্যের দাম অপরিবর্তিত আছে। প্রতিকেজি সাদা চিনি ১১৫ টাকা, খোলা সাদা চিনি ১১০ টাকা,প্রতি কেজি ছোট মসুর ডাল ১৬০ টাকা, মোটা মসুর ডাল ১১০ টাকা, বড় মুগ ডাল ১৪০ টাকা, ছোট মুগ ডাল ১৭০ টাকা, প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা, প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৮০ টাকা।
চকবাজার কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী মুহাম্মদ সুমন বলেন, এখানের বেশিরভাগ সবজি উত্তরাঞ্চল থেকে আসে। বৃষ্টির কারণে সবজি আনতে পঁচে যায়। যার কারনে দাম একটু বেশি হয়। সব মিলিয়ে টানা বৃষ্টির কারণে সবজির দাম একটু বেশি।
চকবাজরের ক্রেতা বেসরকারি চাকরিজীবী মোঃ শাহ আলম জানান, আমাদের মতো মানুষদের বাজারে এলে মন খারাপ হয়ে যায়। সবকিছুর দাম বাড়তি। ৮০-১০০ টাকার নিচে তো ভালো সবজিই নাই। যা আমাদেরকে প্রতিনিয়ত হাঁপিয়ে তুলছে। গত সপ্তাহের চেয়ে কিছু সবজিতে দাম কম কমছে আবার কিছুতে বাড়ছে। তবে কিছু লোক সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ায়। এতে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
শামসুল ইসলাম নামে এক সবজি বিক্রেতা বলেন, গেল কয়েক সপ্তাহ ধরে সবজির দাম কিছুটা বাড়তি যাচ্ছে। এছাড়া কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে সবজির সরবরাহ কমেছে এবং অনেক সবজির মৌসুম শেষ হয়েছে।সবমিলিয়ে সবজির দাম বেড়েছে বাজারে। নতুন করে সবজির মৌসুম শুরু হলে সরবরাহ বাড়বে আর তখন সবজির দাম কমে আসবে।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।