দক্ষিণ পূর্ব

‘ চট্টগ্রামে ৭০ শতাংশ জলাবদ্ধতা কমেছে, বাকি সমস্যাও দূর হবে’ : মেয়র শাহাদাত

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬
পঠিত :
‘ চট্টগ্রামে ৭০ শতাংশ জলাবদ্ধতা কমেছে, বাকি সমস্যাও দূর হবে’ : মেয়র শাহাদাত

ছবি

চট্টগ্রাম নগরীকে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতামুক্ত ও পরিচ্ছন্ন নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। খাল পুনরুদ্ধার, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

 

মঙ্গলবার সকালে নগরীর রসুলবাগ খালে খনন ও পরিষ্কার কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। বর্ষা মৌসুমের আগে জলাবদ্ধতা নিরসন ও নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে চসিকের বিশেষ খাল পুনরুদ্ধার কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

 

মেয়র জানান, সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের চলমান প্রকল্পের পাশাপাশি চসিক নিজস্ব উদ্যোগে নগরীর ৩৭ থেকে ৪০টি খাল পরিষ্কার ও পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব নিয়েছে। প্রথম ধাপে গোলজার খালসহ চারটি গুরুত্বপূর্ণ খালের খনন ও ময়লা অপসারণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

 

পর্যায়ক্রমে ৩৬ নম্বর গোসাইলডাঙ্গা এলাকার খাল, ২৭ নম্বর দক্ষিণ আগ্রাবাদের নাসির খাল এবং ৩৭ নম্বর হালিশহর বন্দর এলাকার বড় খাল পরিষ্কার করা হবে। প্রতিটি খালের অবস্থা অনুযায়ী পরিষ্কার ও খনন কাজে ১৫ দিন থেকে এক মাস কিংবা তারও বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানান তিনি।

 

কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি খালের খনন কার্যক্রম শুরুর আগে এবং শেষ হওয়ার পর ছবি সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মেয়র।

 

পরিদর্শনকালে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু এলাকায় নির্মাণাধীন সুইস গেট ও বিভিন্ন অবকাঠামোর কারণে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান খালের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, খাল দখল বা পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এমন সব অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নগরীর প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ রক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।

 

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, নগরীতে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ২০০ মেট্রিক টন বর্জ্য উৎপন্ন হলেও বর্তমানে চসিক প্রায় ২ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন বর্জ্য সংগ্রহ করতে পারছে। ফলে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য নালা, খাল ও বিভিন্ন স্থানে জমে থেকে জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

 

তিনি বলেন, শুধুমাত্র সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে নগরী পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়। নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধ করতে হবে এবং পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

 

ডোর-টু-ডোর বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি জানান, অনেক বাসিন্দা সামান্য সেবামূল্য পরিশোধে অনাগ্রহ দেখান। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে বিনামূল্যে বর্জ্য সংগ্রহ সেবা চালুর সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম জোরদার এবং ম্যাজিস্ট্রেট সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

চসিকের আর্থিক সক্ষমতার বিষয় তুলে ধরে মেয়র বলেন, বর্তমানে সিটি কর্পোরেশনের প্রায় ৪০০ কোটি টাকার বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে ২৬৪ কোটি টাকা, বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছে আনুমানিক ১৬ থেকে ১৮ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও কন্টেইনার ডিপোর কাছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত বকেয়া পরিশোধের আহ্বান জানান।

 

মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, বিগত কয়েক বছরের বিভিন্ন উন্নয়ন ও খাল পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের ফলে নগরীর জলাবদ্ধতা প্রায় ৭০ শতাংশ কমেছে। অবশিষ্ট সমস্যাগুলো সমাধানে চসিক ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একটি পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে নগরবাসীর সহযোগিতাও প্রয়োজন।

 

এ সময় চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, মেয়রের জলাবদ্ধতা বিষয়ক উপদেষ্টা শাহরিয়ার খালেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

আরএইচ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।