দক্ষিণ পূর্ব

চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৯ আসনে এগিয়ে বিএনপি

দক্ষিণপূর্ব
প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পঠিত :
চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৯ আসনে এগিয়ে বিএনপি

ছবি: দক্ষিণপূর্ব

ঘনিয়ে এসেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সারাদেশের মতো এখানেও চলছে শেষ মুহুর্তের জমজমাট প্রচারণা। একদিকে নির্বাচনে মাঠে নেই আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে  প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াত একসময় ছিলো ঘনিষ্ঠ মিত্র।যে কারণে এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের ভোটের হিসাবনিকাশ  আসন্ন নির্বাচনে পাল্টে গেছে। ভোটের মাঠ যাচাই-বাছাইসহ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের অধিকাংশ  আসনেই বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি  কওমি ও সুন্নি আকিদার ভোট ব্যাংক এখানকার  নির্বাচনে বড় একটি ফ্যাক্টর। একসময়কার বিএনপির দূর্গ বলে পরিচিত এই অঞ্চলে আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলে প্রবাসী ও শিক্ষিত তরুণ প্রজম্মের ভোটাররা বড় ধরণের প্রভাব ফেলবে।

 

চট্টগ্রাম অঞ্চলের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় আছে ১৬ টি সংসদীয় আসন। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে ৩ টি ও কক্সবাজারে আছে ৪ টি সংসদীয় আসন। অতীতের নির্বাচনে বৃহত্তর চট্টগ্রামের এই ২৩টির মধ্যে অধিকাংশ আসনে জয় পেয়েছিল বিএনপি।তবে বর্তমান বাস্তবতায় অধিকাংশ আসনেই হাড্ডাহাড্ডি লডাই হবে।এরমধ্যে কট্টর জামায়াত বিরোধী বলে পরিচিত সুন্নিদের (খানকা ও মাজারপন্থী) ৩ টি রাজনৈতিক দল জোট করে  নির্বাচন করায় বিপাকে পড়েছে বিএনপি।তারা প্রার্থী না দিলে  জামায়াত ঠেকাতে সুন্নী জনতার এই বিশাল ভোটব্যাংক বিএনপিতেই যেতো।এই সুন্নী প্রার্থীরাই এই এলাকায় এখন বিএনপির জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে।আগে এখানকার  কওমিদের বিশাল ভোটব্যাংক ধানের শীষে পড়লেও  সেগুলো এবার ভাগ হয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তা বেড়েছে বিএনপির। এছাড়া দক্ষিণ চট্টগ্রামের দুইটি আসনে শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থীও বিএনপির মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। 

 

এদিকে  প্রবাসী ও তাদের পরিবারের  বড় একটা অংশের ভোট জামায়াতের দিকে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন সমীক্ষায় উঠে এসেছে।সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে শিক্ষিত তরুণ প্রজম্মের বড় একটি অংশও বিএনপি বিমুখ হয়েছে বলে জানা গেছে।তবে এরপরও চট্টগ্রামের কমপক্ষে ৯ টি আসনে এগিয়ে আছে বিএনপি। সেগুলো হলো রাউজান,হাটহাজারী, সীতাকুণ্ড, বন্দর- পতেঙ্গা ,পটিয়া,বোয়ালখালী- পাঁচলাইশ,কক্সবাজার সদর, রাঙামাটি ও বান্দরবান আসন।এই ৯ টি আসনে বিএনপি সহজ জয় পাচ্ছে বলে আভাস পাওয়া গেছে। 

 

সংখ্যালঘু ও সুন্নি সম্প্রদায়ের ভোট প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর কমিটির সাবেক সেক্রেটারি আবুল হাশেম বক্কর  বলেন , 'আমরা হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছি।এই কাজের রেজাল্ট ইনশাআল্লাহ এই নির্বাচনে পাবো। আর সুন্নি প্রার্থীদের কথা বলছেন তো।তারা প্রতিবারই দাঁড়ায়।কি ফলাফল করে সেটা তো আপনারা জানেন।দলগুলোর নেতাকর্মীরা হয়তো তাদের ওই প্রার্থীকে ভোট দেবেন। তবে সাধারণ সুন্নিরা এবার ভোট দিবে ধানের শীষে।তারা জানে ওই প্রার্থীকে ( সুন্নি জোট)  ভোট দেওয়া মানে ভোটটি পঁচে যাওয়া ছাড়া আর কিছুই নই।'

 

এদিকে সারাদেশের  মতো চট্টগ্রামেও আসন্ন নির্বাচনে জামায়াত ভালো ফলাফল করবে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।অধিকাংশ আসনে তারা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও এরমধ্যে ৭ টি আসনে বিএনপি থেকে কিছুটা এগিয়ে আছে দীর্ঘদিন ব্যাকফুটে থাকা এই দলটি।জামায়াত এগিয়ে থাকা আসনগুলো হলো সাতকানিয়া-লোহাগাড়া,বাঁশখালী,
চন্দনাইশ,মিরসরাই, কুতুবদিয়া - মহেশখালী,উখিয়া - টেকনাফ,হালিশহর- পাঁচলাইশ । যদিও  কিছু এলাকায় জামায়াতের রিজার্ভ ভোট থাকলেও সংসদ নির্বাচনে  এই অঞ্চলে  ভালো করার রেকর্ড নেই জামায়াতের। 

 

সাতকানিয়া - লোহাগাড়া, চকরিয়া,  কুতুবদিয়া- মহেশখালী ও বান্দরবান ছাড়া কোন আসনেই জামায়াত কখনও জয়ের মুখ দেখেনি।এখানে তাদের  পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ হলো এলাকার বিশাল হিন্দু ভোটব্যাংক।সংখ্যালঘু সম্প্রাদায়ের এই ভোটগুলো আগে আওয়ামী লীগের কাছে যেতো।তবে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় এই ভোটগুলোর অধিকাংশই এবার যাবে বিএনপির বক্সে।সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে বিষয়টি। 

 

এই বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের নির্বাচন পরিচালক মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন,'দেশের মানুষ এবার পরিবর্তন চায়।তারা ইনসাফ ও সুশাসন চাচ্ছে।যে কারণে শুধু মুসলমানরা নই,চট্টগ্রামের হিন্দু বৌদ্ধসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষজন এখন দাঁড়িপাল্লা প্রতীককে আপন করে নিয়েছেন।'

 

চট্টগ্রামে জেলার ১৬ টি আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম -১ ( মিরসরাই)  আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আমিন।সেখানে জামায়াতের প্রার্থী ডেপুটি এটর্নি জেনারেল ছাইফুর রহমান। সেখানে দুই পক্ষের মধ্য হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।তবে বহু বিভক্ত উপজেলা বিএনপির কারণে জামায়াতের ছাইফুর রহমান সুবিধাজনক অবস্থায় আছেন।

 

চট্টগ্রাম -২ (ফটিকছড়ি) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর।ঋণখেলাপের অভিযোগে কিছুটা বেকায়দায় থাকলেও ধানের শীষের রিজার্ভ ভোট ব্যাংক এগিয়ে দিয়েছে তাকে।এছাড়া হেফাজত আমীর মাওলানা মহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর ব্যক্তিগত আশীর্বাদ আছে সরওয়ার আলমগীরের প্রতি।আসনটিতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মাঠে আছেন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি  অধ্যক্ষ নুরুল আমিন।আসনটিতে বৃহত্তর সুন্নি জোটের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন সাইফুদ্দিন মাইজভান্ডারি। তারও আছে ছোট রিজার্ভ ভোটব্যাংক। তিনি না দাঁড়ালে ভোটগুলো যেতো ধানের  শীষে।আসনটিতে হাতপাখা প্রতীকের জুলফিকার আলীসহ মোট ৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।তবে এক সময়ের সন্ত্রাসের জনপদ বলে পরিচিত এই আসনে  ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যেই জমজমাট  লড়াই হবে।

 

চট্টগ্রাম -৩ ( সন্দ্বীপ) আসনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।তবে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কারণে বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি মোস্তফা কামাল পাশা এখানে সুবিধাজনক অবস্থায় আছেন।দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা উত্তর জেলা জামায়াতের আমীর আলাউদ্দিন শিকদারের আসনটিতে আছে শক্ত অবস্থান। 

 

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও নগর আংশিক) আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী  লায়ন মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী।বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য  এই প্রভাবশালী নেতার এই আসনসহ উত্তর চট্টগ্রামে আছে শক্তিশালী অবস্থান। আসনটিতে জামায়াত জোটের হয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করছেন  আনোয়ার সিদ্দিকী।এখানে মোট ৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আসলাম চৌধুরী ও আনোয়ার সিদ্দিকীর মধ্যে।তবে কার্যত আসনটিতে ধানের শীষের আসলাম চৌধুরী এগিয়ে আছেন।

 

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী - বায়েজিদ) আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে সেখানে ধানের শীষের প্রার্থী  মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের সাথে জামায়াত জোটের খেলাফত মজলিসের মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনিরের রিকশা মার্কার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। সার্বিক বিবেচনায় সেখানে বেশ এগিয়ে আছেন মীর হেলাল।

 

চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান)আসনে ধানের শীষের প্রার্থী  গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর সাথে  জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শাহজাহান মঞ্জুর মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।সন্ত্রাস কবলিত এই জনপদের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বেশ এগিয়ে আছেন গিয়াস কাদের। 

 

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে আটজন প্রার্থী। তবে এখানে ধানের শীষের প্রার্থী  হুমাম কাদের চৌধুরীর সাথে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. এ টি এম রেজাউল করিমের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।আসনটিতে শুরুতে হুম্মাম কাদের বেশ এগিয়ে থাকলেও বৃহত্তর সুন্নি জোটের প্রার্থী এডভোকেট ইকবাল হাসানের জোরালো প্রচারণা পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছে। জামায়াত বিরোধী সুন্নী মতাদর্শের লোকজনের একটা বড় অংশের ভোট চলে যাচ্ছে ইকবাল হাসানের মোমবাতি প্রতীকে। আওয়ামী লীগের ভোটের একটা অংশও যাবে মোমবাতিতে। যে কারণে হুম্মাম কাদেরের নির্বাচনে জয়লাভ হয়ে পড়েছে চ্যালেঞ্জিং। 

 

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী - চান্দগাঁও) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হয়েছেন  মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ।আসনটিতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন জামায়াতের জনপ্রিয়  প্রার্থী ডা. মো. আবু নাছের।তবে শেষ মুহুর্তে এসে এই আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয় এলাকায় নবাগত এনসিপির প্রার্থী মো. জোবাইরুল হাসান আরিফকে।যে কারণে  এরশাদ উল্লাহ'র জয়লাভ অনেক সহজ হয়ে উঠেছে।তবে দলীয় সমর্থন উঠিয়ে নিলেও মাঠে কাজ করছেন দাঁড়িপাল্লার আবু নাসের।শেষ পর্যন্ত নাসের জোটের সমর্থন পেলে এরশাদ উল্লাহ'র জন্য ভোটের মাঠ আবারও কঠিন হয়ে উঠবে।

 

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী  দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতের চিকিৎসক নেতা ডা. এ কে এম ফজলুল হকে।সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই আসনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।এখানে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটে এগিয়ে থাকবেন আবু সুফিয়ান।আর রিজার্ভ ভোট ও শিবিরের শক্ত অবস্থান টেনে আনতে পারে ডা.  ফজলুল হককে।

 

চট্টগ্রাম-১০(ডবলমুরিং-হালিশহর-।পাহাড়তলী) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সাঈদ আল নোমান। আর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী চসিকের  সাবেক জনপ্রিয়  কাউন্সিলর শামসুজ্জামান হেলালী। বিএনপির প্রার্থী রাজনীতিতে নবাগত হওয়ায় ও জামায়াতের শক্তিশালী ভোট ব্যাংকের কারণে আসনটিতে কার্যত এগিয়ে আছেন হেলালী।
 

 

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী   ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এই আসনে  জামায়াতের প্রার্থী চসিকের সাবেক কাউন্সিলর  মোহাম্মদ শফিউল আলমের। আসনটিতে এগিয়ে আছেন আমীর খসরু।

 

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে ধানের শীষের এনামুল হকের সাথে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লার ডা. ফরিদুল আলমের মূল  প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।তবে সেখানে বেশ ব্যবধানে এগিয়ে থাকবেন ধানের শীষের প্রার্থী এনাম।

 

চট্টগ্রাম -১৩ (আনোয়ারা- চন্দনাইশ) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি সরোয়ার জামাল নিজামের সাথে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের অধ্যাপক মাহমুদুল হাসানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।তবে এই নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে সুন্নি জোটের প্রার্থী মোহাম্মদ শাহজাহান। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একটি অংশের তিনি সহযোগিতা পাচ্ছেন।শেষ পর্যন্ত এই ৩ প্রার্থীর মধ্যেই  প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার আভাস পাওয়া গেছে।

 

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন। সেখানে বিএনপির দুই নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন।আসনটিতে জামায়াত জোটের প্রার্থী হয়েছেন এমডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল ( অব)অলি আহমেদের ছেলে ড. ওমর ফারুক।সেখানে সুন্নী জোটের মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থীরও ভালো অবস্থান আছে।তবে শেষ পর্যন্ত আসনটিতে ছাতা প্রতীকে অলি পুত্রের জয়লাভ করার সম্ভাবনা বেশি।

 


চট্টগ্রাম -১৫ ( সাতকানিয়া -লোহাগাড়া)  আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করছেন সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী। আসনটিতে বিএনপি জোটের প্রার্থী নাজমুল মোস্তাফা। জামায়াতের দূর্গ বলে পরিচিত এই আসনে শাহজাহান চৌধুরী সহজেই জয় পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 


চট্টগ্রাম -১৬ আসনে ১১ দলীয় জোট থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম। আসনটিতে ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করছেন মিশকাতুল আলম পাপ্পা।এই আসনে ফুটবল প্রতীকে স্বতন্ত্র  নির্বাচন করছেন জনপ্রিয় বিএনপি নেতা লেয়াকত আলী।এখানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী লিয়াকতের সাথে দাঁড়িপাল্লার  জহিরুল ইসলামের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার আভাস পাওয়া গেছে। যদিও বিএনপির ভোট বিভক্ত হয়ে যাওয়ায়  শেষ পর্যন্ত দাঁড়িপাল্লার জহিরুলের এখানে সহজ জয় আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 


এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি আসনের  মধ্যে রাঙামাটিতে আসনে বিএনপি প্রার্থী দীপেন দেওয়ানের সঙ্গে ১১ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিকের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এক্ষেত্রে দুর্বল প্রতিদ্বন্দ্বী থাকায় সহজ জয় পাবেন সমীকরণ দেওয়ান।
খাগড়াছড়ি আসনে দুই নারী প্রার্থীসহ মোট ১১ জন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপির  প্রার্থী সাবেক এমপি  ওয়াদুদ ভুঁঞার সাথে জামায়াতের এডভোকেট এয়াকুব আলীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। বান্দরবান আসনে  বিএনপির প্রার্থী সাচিং প্রু জেরির সাথে ১১ দলীয় জোটের এনসিপি প্রার্থী আবু সাঈদ মো. সুজা উদ্দীনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। আসনটিতে  ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন।তবে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বি না থাকায় মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এই আসনে বিএনপির প্রার্থী সাচিং প্রু জেরির সহজ জয়ের সম্ভাবনা আছে। 

 

বিএনপির এক সময়ের দূর্গ বলে  পরিচিত কক্সবাজারের ৪ টি আসনেই এখন শক্ত অবস্থান জামায়াতের। এরমধ্যে কক্সবাজার-২ (কুতুবদিয়া-মহেশখালী)  ও কক্সবাজার ৪ (উখিয়া-টেকনাফ)  আসনে বিভিন্ন ক্যালকুলেশনে এগিয়ে আছে জামায়াতের প্রার্থী  যথাক্রমে সাবেক এমপি  হামিদুর রহমান আজাদ ও জেলা আমীর মাওকানা নুর মোহাম্মদ আনোয়ারী।এমনকি বিএনপির হেভিওয়েট নেতা স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদকে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন জামায়াতের তরুণ নেতা আব্দুল্লাহ আল ফারুক।তবে কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী লুতফুর রহমান কাজলের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী হলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বাহাদুর।এছাড়া কক্সবাজার -২ আসনে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী জিয়াউর রহমানেরও কিছু ভোট পাওতার সম্ভাবনা আছে।

 

এমএইচএফ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।