চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তান থেকে আমদানি করা ১০ কনটেইনারে ১৫০ টন কাঁচা তামাকের চালান আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, কাঁচামাল ও প্রক্রিয়াজাত তামাকের হিসাবে অসংগতি এবং বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকির আশঙ্কায় চালানটি আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে নগরের আগ্রাবাদে সিজিও ভবন-২-এ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানায়, কুষ্টিয়ার গ্লোবাল লিফ টোব্যাকো লিমিটেড শতভাগ রপ্তানিমুখী বন্ডেড ওয়্যারহাউস প্রতিষ্ঠান। গত ২৮ অক্টোবর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের ২৮ সদস্যের একটি বিশেষ নিবারক দল প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করে। এ সময় প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল, উৎপাদিত পণ্য ও সংরক্ষিত নথিপত্র যাচাই করা হয়।
পরিদর্শনে প্রতিষ্ঠানে ২ লাখ ৫৭ হাজার ৩৬৯ কেজি কাঁচা তামাকের ঘাটতি পাওয়া যায়। অন্যদিকে ১৭ লাখ ২৫ হাজার ৬৭২ কেজি আধা প্রক্রিয়াজাত তামাকের অতিরিক্ত মজুত পাওয়া গেছে। এসব অসংগতির কারণে সরকারের সম্ভাব্য বকেয়া মূসকের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ২৯ লাখ ৯ হাজার টাকা।
সংবাদ সম্মেলনে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহম্মেদ বলেন, বন্ড লাইসেন্স সুবিধার অপব্যবহারের কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। আমদানি করা কিছু পণ্য সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আবার হিসাবের তুলনায় কিছু পণ্যের পরিমাণ অনেক বেশি পাওয়া গেছে, যার পক্ষে প্রতিষ্ঠানটি কোনো বৈধ দলিল দেখাতে পারেনি।
চট্টগ্রাম বন্দরে আটক তামাকের চালান সম্পর্কে তিনি জানান, গত ১৭ অক্টোবর পাকিস্তান থেকে জাহাজে তামাকের চালানটি পাঠানো হয়। ১৯ অক্টোবর সেটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। পরে আমদানির বিল অব এন্ট্রি দাখিল করা হলেও কাস্টমসের শুল্কায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। এর মধ্যেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অধিদপ্তর হস্তক্ষেপ করে চালানটি আটক করে।
তিনি আরও জানান, আটক ১৫০ টন কাঁচা তামাক দিয়ে প্রায় ২১ কোটি ৪৩ লাখ শলাকা প্রিমিয়াম সিগারেট উৎপাদন সম্ভব। এসব সিগারেটের সম্ভাব্য খুচরা বাজারমূল্য প্রায় ৪৯৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।