নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের চন্দনাইশে গেজেটধারী জুলাই যোদ্ধা ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপির নির্বাহী সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ও মঈন উদ্দীন মাহিনের ওপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার জাতীয় মহাসড়কের বদুরপাড়া পেট্রোল পাম্পের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সংগঠক সাজ্জাদ হোসেন রাহাত জানান, শুক্রবার রাতে সিএনজি টেক্সিযোগে পটিয়া থেকে চন্দনাইশের বাড়ি ফিরছিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ ও মঈন উদ্দীন মাহিন। পথে বদুরপাড়া এলাকায় পৌঁছালে ১০-১২ জনের একদল দুর্বৃত্ত তাদের গতিরোধ করে।
তিনি বলেন, একপর্যায়ে কথা কাটাকাটির সময় হামলাকারীরা তাদের মুখ চেপে ধরে ছুরিকাঘাত ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা প্রথমে তাদের চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
সাজ্জাদ হোসেন রাহাত আরও বলেন, স্বৈরাচারের দোসর জসিমের বিরুদ্ধে গত ১০ জানুয়ারি চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে আমরা মানববন্ধন করেছিলাম। এরপর থেকে তার অনুসারীরা বিভিন্ন প্রলোভন ও হুমকি দিয়ে আসছিল। এ ঘটনায় গতকাল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
তিনি হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলেও জানান তিনি।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব জসিম উদ্দীন আহমদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, জুলাই যোদ্ধারা আমাদের আবেগ। কিন্তু এলডিপি, কিছু সংখ্যক এনসিপি এবং জামায়াতে ইসলামী একটি জোট হিসেবে পরিকল্পিতভাবে একটি কাল্পনিক ঘটনা সাজিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, বদুরপাড়া এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং আমার ও দলের ইমেজ ক্ষুণ্ন করার একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা বলেন তিনি।
চন্দনাইশের শান্ত পরিবেশ অশান্ত করার জন্য এটি গভীর ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে জসিম উদ্দীন আহমদ বলেন, উন্নয়ন ও জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে পরাজিত শক্তি গুজব ছড়াচ্ছে। তিনি চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার জনগণকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াছ খান বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত। বিষয়টি নিয়ে ছায়া তদন্ত চলছে। এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রহা
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।