দক্ষিণ পূর্ব

চসিক নির্বাচনে মেয়র পদে আলোচনায় জামায়াতের তরুণ নেতা ড. মাসরুর

মনির ফয়সাল
প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পঠিত :
চসিক নির্বাচনে মেয়র পদে আলোচনায় জামায়াতের তরুণ নেতা ড. মাসরুর

ফাইল ছবি

সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহানগরীর চারটি আসনেই জামায়াতে ইসলামী পরাজিত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দলটির ভেতরেই চলছে বিভিন্ন ধরণের হিসাবনিকাশ। এরমধ্যে স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা  শুরু হতেই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে অনেকের নাম উঠে এসেছে। এরমধ্যে তরুণ প্রজন্মের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ড. আ ম ম মাসরুর হোসাইনের নাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। জামায়াতের সোশ্যাল মিডিয়া এক্টিভিসদের দাবি, চট্টগ্রামের সামগ্রিক উন্নয়নসহ তরুণ প্রজম্মকে কাছে টানতে ড. মাসরুর হতে পারেন যোগ্যতম বিকল্প।

 

জামায়াতে ইসলামীর একটি সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নিয়ে সংগঠনের সদস্য (রোকন) ও ওয়ার্ড সভাপতিদের মতামত নেওয়া হয়েছে। সেখানে উল্লেখযোগ্য একটি অংশ চাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হোক তরুণ প্রজন্ম থেকে। এতে প্রস্তাব এসেছে ড. আ ম ম মাসরুর হোসাইনের নাম। তবে এ বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং এ নিয়ে তদারকি করার জন্য একটি কমিটি করে দিয়েছে সংগঠনটি।

 

জানা গেছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিটি করপোরেশনের চট্টগ্রাম ৮, ৯, ১০ ও ১১ চারটি আসনে ভোট পেয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ৫৮০ ভোট। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এ ভোটের চিত্র কেমন হবে সেটা ভাবনার বিষয়। তবে প্রার্থী বাছাইয়ে কৌশলী হলে ভোট বাড়তে পারে বলে ধারণা অনেকের।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ড. আ ম ম মাসরুর হোসাইন কেবল একজন দক্ষ সংগঠকই নন, বরং একজন আন্তর্জাতিক মানের গবেষক। তার বর্ণাঢ্য শিক্ষাজীবন এবং রাজনৈতিক ত্যাগের ইতিহাস তাকে সাধারণের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। তার সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মতে, তার মাঝে রয়েছে বিচক্ষণ নেতৃত্ব। ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় এইচআরডি সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাকে দক্ষ মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে গড়ে তুলেছে। উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার জন্য তিনি মালয়েশিয়ার বিখ্যাত ইন্টারন্যাশনাল ইসলামী ইউনিভার্সিটি (IIUM) থেকে Taxation In Bangladesh বিষয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন। ট্যাক্সেশন বা রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় তার অগাধ পাণ্ডিত্য চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক সংকট নিরসন ও সুষ্ঠু নগর ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

জামায়াতে ইসলামীর একটা অংশ জানান, চট্টগ্রামের অলিগলি থেকে দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও চাঁদাবাজি নির্মূল করে একটি পরিকল্পিত 'স্মার্ট সিটি' বিনির্মাণই ড. মাসরুর হোসাইনের মূল ভিশন। সমর্থকরা বলছেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং বাণিজ্যিক গুরুত্ব পুনরুদ্ধারে একজন সৎ, দেশপ্রেমিক ও দূরদর্শী জনপ্রতিনিধির বিকল্প নেই। সেই শূন্যস্থান পূরণে ড. মাসরুর হোসাইনই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জুতসই নাম। চসিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই তরুণ ও মেধাবী নেতৃত্বের সম্ভাবনা চট্টগ্রামের রাজনীতিতে এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।

 

তবে এ বিষয়ে সরাসরি মুখ খোলেননি ড. মাসরুর হোসাইন। তিনি দক্ষিণপূর্বকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীতা বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী যথাসময়ে মিডিয়ার মাধ্যমে দেশবাসীকে অবহিত করবেন। এই ব্যাপারে আমার ব্যক্তিগত মতামত প্রদানের কোন সুযোগ নেই৷ সংগঠনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

 

এমএইচএফ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।