দক্ষিণ পূর্ব

জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জামায়াত বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছে: শাহজাহান চৌধুরী

ইমাম উদ্দিন
প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬
পঠিত :
জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জামায়াত বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছে: শাহজাহান চৌধুরী

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে শনিবার (২৯ আগস্ট) নগর জামায়াতের কার্যালয় বিআইএ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর মজলিসে শূরার ২য় সাধারণ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী এমপি।


কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, মুহাম্মদ উল্লাহ ও ফয়সল মুহাম্মদ ইউনুস, নগর শূরা সদস্য প্রফেসর ড. আবু বকর রফিক আহমাদ, ড. অধ্যক্ষ মাওলানা সাইয়েদ আবু নোমান, নগর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ও মেয়র প্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. ছিদ্দিকুর রহমান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান, নগর শূরা সদস্য মাওলানা লিয়াকত আক্তার সিদ্দিকী, নগর অফিস সম্পাদক হামেদ হাসান ইলাহী, নগর কর্মপরিষদ সদস্য আবু হেনা মোস্তফা কামাল, অধ্যক্ষ মাওলানা জাকের হোসাইন, অধ্যাপক মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমান, অধ্যাপক মুহাম্মদ নুর, নগর কর্মপরিষদ সদস্য ও কোতোয়ালি থানা আমীর আমির হোসাইন, হালিশহর থানা আমীর ফখরে জাহান সিরাজী সবুজ, ডবলমুরিং থানা আমীর ফারুকে আজম, চান্দগাঁও থানা আমীর মুহাম্মদ ইসমাইল ও ড. আ ম ম মসরুর হোসাইন প্রমুখ। 


প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী এমপি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি ঐতিহ্যবাহী, নৈতিকতা ও আদর্শে সমৃদ্ধ দল। জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও দেশের কল্যাণে জামায়াতে ইসলামী কাজ করে যাচ্ছে। সংসদেও জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিরা জনগণের পক্ষে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছেন।


তিনি বলেন, জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধসহ জনগণের ন্যায্য দাবিগুলো বাস্তবায়নে এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি লংমার্চ কর্মসূচি সর্বাত্মকভাবে সফল করার জন্য দলীয় নেতা-কর্মী ও সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।


অধিবেশনে গৃহীত প্রস্তাব: অধিবেশনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর মজলিসে শূরার পক্ষ থেকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে প্রথমটি রাজনৈতিক প্রস্তাব এবং দ্বিতীয়টি চট্টগ্রাম মহানগরীর স্থানীয় সমস্যা সংক্রান্ত প্রস্তাব।


প্রস্তাব-১: ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত রাজনৈতিক প্রস্তাব: প্রস্তাবে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রায় দুই হাজার শহীদ, হাজার হাজার আহত ও পঙ্গু এবং লক্ষ লক্ষ ছাত্র-শ্রমিক-জনতার জীবন ও ত্যাগের বিনিময়ে দেশে যে পরিবর্তন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার পরও বর্তমান সরকার এখনো জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেনি। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত দুটি নির্বাচনের মধ্যে একটি গ্রহণ করে সরকার গঠন করা হলেও শতকরা ৭০ শতাংশ জনগণের গণভোটের রায় এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি। বারবার আশ্বাস দেওয়ার পরও জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জুলাই গণহত্যার বিচারও এখনো সম্পন্ন হয়নি।


প্রস্তাবে আরও বলা হয়, দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে সরকার গত ছয় মাসে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য বারবার তাগাদা দিলেও সরকার কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।


বর্তমানে দেশে খুন, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিতে জনগণ অতিষ্ঠ। ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে এবং জনজীবনে নিরাপত্তাহীনতা ও অস্বস্তি বিরাজ করছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য অবিলম্বে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধসহ ৬ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ঢাকা শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দান পর্যন্ত লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।


চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের মজলিসে শূরা উক্ত কর্মসূচি সর্বাত্মকভাবে সফল করার লক্ষ্যে দেশের সর্বস্তরের জনগণ এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের সকল নেতা-কর্মীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে।


প্রস্তাব-২: চট্টগ্রাম মহানগরীর স্থানীয় সমস্যা সংক্রান্ত প্রস্তাব: প্রস্তাবে বলা হয়, চট্টগ্রাম মহানগরীর অন্যতম প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। এ সমস্যা সমাধানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করলেও জলাবদ্ধতার কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। বছরের পর বছর ধরে সমস্যা যে তিমিরে ছিল, এখনো সেই তিমিরেই রয়ে গেছে। গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশিত হলেও এখনো কোনো শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হয়নি। নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলর না থাকায় নগরবাসী কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং নানা ধরনের দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।


প্রস্তাবে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সিংহভাগ চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন, স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের নিজস্ব সক্ষমতা ও দক্ষ জনশক্তির মাধ্যমে বন্দর পরিচালনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।


নগরীর যোগাযোগব্যবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে প্রস্তাবে বলা হয়, যানজট এখন নিত্যদিনের সমস্যা। নগরীর কোনো কোনো সড়ক যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন ব্যয় বাড়িয়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতেও ভূমিকা রাখছে।


এদিকে ডেঙ্গু ও হাম রোগ নিয়ে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষাঙ্গনে সরকারি দলের আধিপত্য বিস্তার, সন্ত্রাস ও দখলদারিত্ব, স্বাস্থ্য খাতে উদাসীনতা এবং চট্টগ্রাম মহানগরীর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, নবনির্মিত ভবন ও বাসাবাড়িতে চাঁদাবাজি ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এসব ঘটনায় প্রশাসনের ধারাবাহিক ও অধিকতর সক্রিয় ভূমিকা জনগণ একান্তভাবে প্রত্যাশা করছে। 


মাদক ও কিশোরগ্যাংয়ের বিস্তার সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে প্রস্তাবে বলা হয়, মাদকের সহজলভ্যতা ও কিশোরদের অপরাধীচক্রে জড়িয়ে পড়ার কারণে তরুণ প্রজন্মের নৈতিক অবক্ষয়, সহিংসতা ও সামাজিক অস্থিরতা বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাদকের উৎস ও সরবরাহ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি কিশোরদের পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে নৈতিক শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে কিশোরগ্যাংয়ের পেছনে থাকা মদদদাতা ও অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে কিশোরদের সংশোধন ও পুনর্বাসনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।


অধিবেশনে চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের মজলিসে শূরা সরকারের গত ১৮০ দিনে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান এবং দেশে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতার বিষয়টি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে উল্লেখ করে। একই সঙ্গে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং নগরবাসীর নাগরিক দুর্ভোগ নিরসনে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।


ইই

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।