দক্ষিণ পূর্ব

জামায়াত ঠেকাতে বিভেদ ভুলে এক হলো সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার বিএনপি

sathi
প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৫
পঠিত :
জামায়াত ঠেকাতে বিভেদ ভুলে এক হলো সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার বিএনপি
নিজস্ব প্রতিবেদক 
দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া -লোহাগাড়া)।
জামায়াতের দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসনটিতে পাঁচ ভাগে বিভক্ত বিএনপি। গত ৫  আগস্টের আগে তেমন তৎপরতা না থাকলে বর্তমানে নিজেদের মধ্যে গ্রুপিংয়েই যেন ব্যস্ত সময় পার করছেন নেতারা। এই কোন্দলের আগুনে পুড়ছে দলের তৃণমূলও। তবে এবার বিভেদ ভুলে এক হয়েছে বিবাদমান সব গ্রুপ।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) নগরের একটি হোটেলে মধ্য রাত অবধি সব পক্ষকে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে বৈঠক করেন বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম। এতে দক্ষিণ জেলা  বিএনপির আহবায়ক ইদ্রিস মিয়া ও সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিনও উপস্থিত ছিলেন। 

বৈঠকে বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে সাতকানিয়া  উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ মো. মহিউদ্দিন,  উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুর রহমান চেয়ারম্যান, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক  জামাল হোসেন,লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নাজামুল মোস্তফা,  সাবেক সভাপতি, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আসহাব উদ্দীন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়,বৈঠকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কড়া বার্তা পৌঁছে দেন মাহবুবের রহমান শামীম ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির শীর্ষ দুই নেতা। তারা জানিয়েছেন, দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে নানা নির্দেশনা রয়েছে। সেইসাথে কড়া হুশিয়ারিও দেওয়া হয়। একপর্যায়ে সব পক্ষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার ঘোষণা দেন।

জানা গেছে, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া- এই দুইটি উপজেলা নিয়ে চট্টগ্রাম -১৫ সংসদীয় আসন। এরমধ্যে সাতকানিয়ায়  উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ মো. মহিউদ্দিন,  উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুর রহমান চেয়ারম্যান, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল হোসেনের নেতৃত্বে তাদের সমর্থকরা আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন  করেন।
লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপি বিভক্ত দুইভাগে। এদের একটি অংশের নেতৃত্বে আছেন লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নাজমুল মোস্তফা।আরেক গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক উপজেলা সভাপতি আসহাব উদ্দীন চৌধুরী।এই পাঁচজনই সাতকানিয়া -লোহাগাড়া আসনে বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীক চান৷ এর বাইরেও বর্তমান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার ওসমান চৌধুরীসহ একজন শিল্পপতি বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। 

এদিকে চট্টগ্রামের ব্যবসায়িক হাব বলে সাতকানিয়া লোহাগাড়ায় বিএনপির বিবাদমান পক্ষগুলোর এক হওয়া নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন দলটির  কর্মী সমর্থকরা।তারা বলছেন, এবার সাতকানিয়া-লোহাগাড়া বিএনপি এক হয়েছে।আগামী নির্বাচনে সেখানে  জামায়াতের সাথে হবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। 

 সাতকানিয়ার পুরানগড় ইউনিয়ন বিএনপির  নেতা জসিম উদ্দিন বলেন, শিগগিরই  সাতকানিয়া-লোহাগাড়া বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। গতকাল( বৃহস্পতিবার) মধ্য রাত পর্যন্ত আমাদের বৈঠক হয়েছে। দলের হাইকমান্ডের স্পষ্ট নির্দেশনা কোন কোন্দল চলবে না।আর  চাঁদাবাজি যে করবে তাকে ছাড় নেই। সরাসরি ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা ঐক্যবদ্ধ হচ্ছি।

এই বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন,ছোটখাটো ভুল বুঝাবুঝি থেকে অনেক সময় নিজেদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়।সেখান থেকে তৈরি হয় গ্রুপিং বিভক্তি।আর প্রতিপক্ষ সেই সুযোগটা নিতে চায়।যে কারণে আমরা সাতকানিয়া লোহাগাড়ার নেতাদেরকে নিয়ে বসেছি।তারা কথা দিয়েছেন,সব ভেদাভেদ ভুলে এখন থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।

প্রসঙ্গত,১৯৯১ সাল থেকে  সাতকানিয়া- লোহাগাড়া আসনটি জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত৷ ২০০১ সালে বিএনপি জামায়াত চার দলীয় জোটে সমন্বয় করে নির্বাচন করলেও এ আসনের চিত্র ছিল উল্টো। এখানে জামায়াত  শাহজাহান চৌধুরীকে এককভাবে প্রার্থী করে। আর বিএনপি ধানের শীষ প্রতীক দিয়ে প্রার্থী করে বর্তমান এলডিপি নেতা কর্ণেল অলি আহমদ বীর বিক্রমকে৷ ওই নির্বাচনে অলি আহমদ অর্ধেকের বেশি ভোটে শাহজাহান চৌধুরীর কাছে পরাজিত হয়। ২০০৮ সালেও জামায়াতের প্রার্থী আ ন ম শামসুল ইসলাম।এই আসন থেকে জয়লাভ করেন।

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।