জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কুমিরা থেকে সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া নৌরুটে স্পিডবোটে যাত্রী পারাপার বন্ধ হয়ে গেছে। গতকাল রোববার সকাল থেকে এই রুটে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে হঠাৎ করে সার্ভিস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের সঙ্গে একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা নৌপথ। চারটি নৌরুটের মাধ্যমে সন্দ্বীপে যাতায়াত করতে হয়। এসব নৌরুটে যাত্রী পারাপারের জন্য স্টিমার, ফেরি, কাঠের তৈরি সার্ভিস বোট এবং স্পিডবোট চালু রয়েছে।
বর্তমানে বাঁশবাড়িয়া–গুপ্তছড়া রুটে ফেরি ‘কপোতাক্ষ’ ও বিআইডব্লিউটিএর জাহাজ এমভি মালঞ্চ চলাচল করছে। কুমিরা–গুপ্তছড়া রুটে স্পিডবোট বন্ধ থাকলেও কাঠের তৈরি বড় সার্ভিস বোট চালু রয়েছে। তবে অবকাঠামোগত সুবিধা ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কুমিরা–গুপ্তছড়া এবং বাঁশবাড়িয়া–গুপ্তছড়া রুটে সবচেয়ে বেশি যাত্রী পারাপার হয়ে থাকে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। ফলে তেল কোম্পানিগুলো চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ করতে পারছে না। এরই প্রভাব পড়েছে স্পিডবোট সার্ভিসে।
কুমিরা–গুপ্তছড়া রুটে বিআইডব্লিউটিএর নিয়োজিত ইজারাদার জগলুল হোসেন নয়ন স্পিডবোট চলাচল বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এই রুটে প্রতিদিন যাত্রী পারাপারের জন্য প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার লিটার অকটেন প্রয়োজন হয়। প্রতি সপ্তাহে ব্যাংক পে-অর্ডারের মাধ্যমে আমরা তেল সংগ্রহ করে থাকি।
তিনি আরও জানান, গত সপ্তাহে মেঘনা অয়েল কোম্পানি থেকে সর্বশেষ জ্বালানি তেল সংগ্রহ করা হয়েছে। রোববার সেই তেল প্রায় শেষ হয়ে যায়। নতুন করে অকটেন সংগ্রহের জন্য ব্যাংক পে-অর্ডার দেওয়া হলেও তেল সংকটের কারণ দেখিয়ে মেঘনা অয়েল কোম্পানি সেটি ফেরত দিয়েছে। বর্তমানে অল্প পরিমাণ যে অকটেন রয়েছে তা জরুরি ভিত্তিতে রোগী পারাপারের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে।
হঠাৎ করে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রোববার সকাল থেকেই যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়তে থাকে। ঘাটে যাত্রী পারাপারের দায়িত্বে থাকা রুবেল হোসেন বলেন, যাত্রীর চাপ বিবেচনায় কাঠের সার্ভিস বোটের মাধ্যমে যাত্রী পারাপারের চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্টিমার সার্ভিসও চালু রয়েছে।
সন্দ্বীপ যাওয়ার জন্য কুমিরা ঘাটে আসা যাত্রী রিফাত বলেন, তাড়াতাড়ি বাড়ি যাওয়ার জন্য সকালেই ঘাটে এসেছি। কিন্তু এসে দেখি স্পিডবোট বন্ধ। এখন বাধ্য হয়ে স্টিমার বা সার্ভিস বোটে করে যেতে হবে।
বিআইডব্লিউটিএ চট্টগ্রাম দপ্তরের সহকারী পরিচালক নয়ন শীল বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে স্পিডবোট বন্ধের বিষয়টি তারা জেনেছেন। এটি জাতীয় পর্যায়ের সংকট হলেও সামনে ঈদকে ঘিরে যাত্রী পারাপারের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যমুনা অয়েল কোম্পানির কাছে বিশেষভাবে জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধ জানানো হবে।
এদিকে সাধারণ যাত্রীরা জানান, পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে আর মাত্র চার-পাঁচ দিনের মধ্যে ঘাটে যাত্রী চাপ বাড়তে শুরু করবে। এর মধ্যে যদি পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে সন্দ্বীপগামী যাত্রীদের জন্য বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হতে পারে।
ইই
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।