দক্ষিণ পূর্ব

ডিসি জাহিদের আশ্বাসে ছয় ঘণ্টা পর সড়ক-রেলপথ ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা

দক্ষিণপূর্ব
দক্ষিণপূর্ব
প্রকাশ : ৩ নভেম্বর ২০২৬ ০৫:২২ বিকাল
পঠিত : ২৮
ডিসি জাহিদের আশ্বাসে ছয় ঘণ্টা পর সড়ক-রেলপথ ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা

ছবি

Degchibarictg

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী মাইশা মুশফিরাতের মৃত্যুর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের টানা প্রায় ছয় ঘণ্টার মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার আশ্বাসের পর মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ, অবৈধ লরি পার্কিং বন্ধ এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক।

এর আগে সীতাকুণ্ডের কুমিরায় লরির ধাক্কায় একটি বাস উল্টে গেলে বাসটির নিচে চাপা পড়ে নিহত হন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাত। এ ঘটনায় রাজিয়া নামে আরও এক শিক্ষার্থী আহত হন। সহপাঠীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং রেল চলাচল ব্যাহত হয়।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন জেলা প্রশাসক। একই সঙ্গে নিহত মাইশার বাবা দিদারুল আলমের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে ঘটনাস্থলে যান সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তবে শিক্ষার্থীরা জেলা প্রশাসকের সরাসরি উপস্থিতি দাবি করলে ঘটনাস্থলে যান তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ শিক্ষকেরা।

মহাসড়কে মাইশার জানাজায় অংশ নেন জেলা প্রশাসকসহ উপস্থিত ব্যক্তিরা। পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আপনাদের দাবিগুলো শোনার আগেই আমি আমার মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গেও কথা বলেছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন এলাকায় ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আজকেই ফুটওভার ব্রিজের জন্য লিখিতভাবে জানাব, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এখানে ফুটওভার ব্রিজটি নির্মাণ করা যায়।’ পাশাপাশি মহাসড়কের দুই পাশে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

অবৈধ লরি পার্কিং বন্ধের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘কোনো অবৈধ পার্কিং এখানে থাকবে না। কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান যদি রাস্তা দখল করে লরি বা গাড়ি রাখে, সেগুলো আমরা রাস্তায় রাখতে দেব না।’ এ ছাড়া রেললাইনের পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের আশ্বাস দেন তিনি।

দুর্ঘটনায় জড়িত লরিচালককে দ্রুত আইনের আওতায় আনার বিষয়েও পুলিশ সুপারের আশ্বাসের কথা জানান জেলা প্রশাসক। নিহতের পরিবারের ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিবারের চাহিদা অনুযায়ী লরির মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সরকারের পক্ষ থেকেও সহায়তা দেওয়া হবে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মামলা দায়ের, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চালককে গ্রেপ্তার, চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ, ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ, নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং নিরাপদ সড়ক পারাপার নিশ্চিত করা।

দীর্ঘ সময় অবরোধের কারণে অ্যাম্বুলেন্সসহ অসংখ্য যানবাহন আটকে পড়ার বিষয়টি তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের কথা দিচ্ছি, আপনাদের যে দাবিগুলো আছে, সেগুলো আমরা স্বল্পতম সময়ের মধ্যে পূরণ করব।’

পরে জেলা প্রশাসকের আশ্বাস এবং প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর অবরোধ প্রত্যাহার করেন শিক্ষার্থীরা। ফলে প্রায় ছয় ঘণ্টা পর মহাসড়ক ও রেলপথে যান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পথ তৈরি হয়।

আরএইচ 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।