চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই চট্টগ্রাম নগরের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন। তিনি বলেছেন, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং কর্ণফুলী নদীতীরবর্তী কালুরঘাট-চাক্তাই সংযোগ সড়ক প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ করা হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পগুলোর উদ্বোধন করবেন। তবে উদ্বোধনের আগেই নগরবাসী এসব প্রকল্পের সুফল ভোগ করতে শুরু করবে।
বুধবার সকালে সিডিএর সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আয়োজিত পরিচিতি সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে প্রথম কার্যদিবসে দায়িত্ব গ্রহণের পর সিডিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। সকালে তিনি শাহ সুফি হযরত আমানত শাহ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন।
সভায় বেলায়েত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বন্দরনগরীর মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। সব প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও নান্দনিক নগর হিসেবে গড়ে তোলাই তার প্রধান লক্ষ্য।
তিনি বলেন, সিডিএর অধিকাংশ কর্মকর্তা চট্টগ্রামের সন্তান। ফলে এই নগরের উন্নয়ন ও মানুষের প্রত্যাশা পূরণে তাদের বিশেষ দায়বদ্ধতা রয়েছে। শুধু দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন নয়, নগরের উন্নয়নে আন্তরিকতা ও ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি ত্বরান্বিত করাকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। খুব শিগগিরই তিনি প্রকল্পগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন বলেও জানান।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে তিনি নিজে জড়াবেন না এবং কর্মকর্তাদেরও এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার নির্দেশনা দেন। একইসঙ্গে উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা দূর করতে বিভিন্ন সেবা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন অবকাঠামোসহ নানা জটিলতার কারণে অনেক সময় প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়। এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে দ্রুত আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, অন্যান্য সেবা সংস্থা এবং জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মতামত ও পরামর্শও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
সরকারি জমি, খাল ও নালা দখলের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব-প্রতিপত্তি বিবেচনা না করে যে কেউ সরকারি সম্পত্তি দখল করলে তার বিরুদ্ধে উচ্ছেদসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের অনিয়ম কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
নগর পরিকল্পনা ও ভবন নির্মাণে অনুমোদিত নকশা অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, নকশাবহির্ভূত নির্মাণ চট্টগ্রামের পরিকল্পিত উন্নয়নের বড় বাধা। তাই এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
গণমাধ্যমের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সিডিএর কার্যক্রম সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি এড়াতে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তথ্য প্রদানে কোনো ধরনের গোপনীয়তা বা অস্পষ্টতা থাকা উচিত নয়।
সভায় সিডিএ কর্মকর্তারা সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তারা বলেন, সমন্বিত উদ্যোগ, দক্ষ পরিকল্পনা এবং টিমওয়ার্কের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে আরও আধুনিক, বাসযোগ্য ও নান্দনিক নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব।
পরিচিতি সভায় সিডিএর সার্বক্ষণিক সদস্য মোহাম্মদ নূরুল্লাহ নুরী, প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, সচিব মোহাম্মদ মাহবুবুল করিমসহ সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।