এরই মধ্যে বন্দরের সব ভেসেল বিল অনলাইনে সম্পন্ন হচ্ছে। একইভাবে কনটেইনার ও কনসাইনি বিল টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের (টিওএস) মাধ্যমে তৈরি ও আদায়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ই-গেট পাস, গেট ইন-আউট, ভেসেল ই-এনওসি, অনলাইন কার্ট টিকিট এবং টাইম স্লট ব্যবস্থাপনাও ডিজিটাল প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হচ্ছে। ফলে পণ্য খালাসের বিভিন্ন ধাপে ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপ কমে আসবে।
বন্দর কর্মকর্তারা জানান, নবনির্মিত ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে সোনালী ব্যাংক পিএলসির বুথ স্থাপনের পাশাপাশি এপিআই ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে অনলাইনে মাশুল পরিশোধের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এতে ছুটির দিন কিংবা অফিস সময়ের বাইরেও বন্দর ব্যবহারকারীরা অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মাশুল পরিশোধ না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘অটো পুল পেমেন্ট’ ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
পণ্য খালাসের পরবর্তী কার্যক্রমও ধাপে ধাপে স্বয়ংক্রিয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। টিওএসের মাধ্যমে স্পেশাল ডেলিভারি অ্যাসাইনমেন্ট অনলাইনে অনুমোদন, এনবিআর ও কাস্টমসের এপিআই ব্যবহার করে অকশন ডেলিভারি এবং ব্রেকবাল্ক অপারেশন অনলাইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বন্দরে যানজট নিয়ন্ত্রণেও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ রয়েছে। টিওএসের নতুন সংস্করণে ড্রপ টিকিট, পিকআপ টিকিট এবং ইআইআর ই-গেট পাস সংযুক্ত করা হবে। এতে কোন ট্রাক কখন বন্দরে প্রবেশ করবে এবং কোন পণ্য নিয়ে বের হবে, তা আরও সুশৃঙ্খলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
এ ছাড়া বে টার্মিনালে স্লটভিত্তিক ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে পেমেন্টভিত্তিক ট্রাক পার্কিং টিকিটিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, বিভিন্ন সেবায় অটোমেশন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় বন্দরের কার্যক্রমে গতি ও দক্ষতা বাড়ছে। এনসিটির কার্যক্রম হস্তান্তরের পর দক্ষতা ১২ থেকে ১৪ শতাংশ বেড়েছে। ‘সিপিএ স্কাই’ এবং প্রি-অ্যারাইভাল প্রসেসের মতো ডিজিটাল ব্যবস্থাও বন্দরের কার্যক্রম দ্রুততর করতে ভূমিকা রাখছে।
তিনি জানান, সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এসব কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। সভায় বন্দরসেবা আরও ডিজিটাল করার পাশাপাশি যানজট কমানো, দ্রুত রাজস্ব আদায় এবং ব্যবহারকারীদের হয়রানি কমাতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে জুলাইয়ে ডেলিভারি ডকুমেন্টেশনের প্রতিটি ধাপ টিওএসের মাধ্যমে ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ফলে ডেলিভারি অর্ডারের আবেদন থেকে চূড়ান্ত গেট আউট পর্যন্ত ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। একই সঙ্গে টিওএসকে কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের সঙ্গে রিয়েল-টাইমে সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে কাস্টমস কোনো কনটেইনার আটকে দিলে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমও স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত হবে।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।