দক্ষিণ পূর্ব

নয় মাসে ইসলামী ব্যাংকের ৩ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা লোকসান

saiful
saiful
প্রকাশ : ৩ নভেম্বর ২০২৬ ১০:৩৫ দুপুর
পঠিত : ২২
নয় মাসে ইসলামী ব্যাংকের ৩ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা লোকসান
Degchibarictg
চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির লোকসান হয়েছে ৩ হাজার ২৮৬ কোটি টাকার বেশি। একই সময়ে ব্যাংকটির আমানত কমেছে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে, বেড়েছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। ব্যাংকটির তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২০ টাকা ৪১ পয়সা। অথচ আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৬২ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মুনাফা থেকে বড় অঙ্কের লোকসানে পড়েছে ব্যাংকটি। শুধু তৃতীয় প্রান্তিকেই শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১২ টাকা ২৪ পয়সা।

ব্যাংকটির আর্থিক সংকটের পেছনে খেলাপি বিনিয়োগ থেকে আয় না পাওয়া, আমানতের বিপরীতে মুনাফা ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের অর্থ আটকে থাকার মতো বিষয়কে দায়ী করা হচ্ছে। পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী নেতৃত্বসংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

গত ১৪ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে পর্ষদের দায়িত্ব পালনের ক্ষমতা দেওয়া হয়। সেই থেকে কার্যত একজনের মাধ্যমে পর্ষদের দায়িত্ব পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে, গত এপ্রিল থেকে ব্যাংকটিতে নিয়মিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নেই। সাবেক এমডি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওমর ফারুক খানকে ছুটিতে পাঠানোর পর অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন ভারপ্রাপ্ত এমডির দায়িত্ব পালন করছেন।

ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ না থাকায় বড় অঙ্কের ঋণ অনুমোদন, ঋণসীমা বৃদ্ধি, ঋণ নবায়ন এবং আমদানি-রপ্তানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হচ্ছে। এতে দীর্ঘদিনের করপোরেট গ্রাহকেরাও প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা পেতে সমস্যায় পড়ছেন। বিশেষ করে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও তৈরি পোশাক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর বেতন-ভাতা পরিশোধ, কাঁচামাল আমদানি এবং রপ্তানি কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এদিকে, ব্যাংকটির আমানতেও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। চলতি বছরের শুরুতে ইসলামী ব্যাংকের আমানত ছিল প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা। তা কমে বর্তমানে ১ লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকায় নেমেছে। অর্থাৎ কয়েক মাসে আমানত কমেছে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা।

অন্যদিকে, গত জুন শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৮ হাজার ৯১৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৫২ দশমিক ১৫ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ইসলামী ব্যাংকের সংকট কেবল তারল্য বা খেলাপি ঋণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে সুশাসন, ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্বের ঘাটতিও জড়িত। ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে খেলাপি বিনিয়োগ আদায়ের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। দ্রুত পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং নিয়মিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ না হলে গ্রাহকদের আস্থা ও ব্যাংকটির ব্যবসায়িক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার কঠিন হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইসলামী ব্যাংকের জন্য যোগ্য ও স্বচ্ছ পরিচালনা পর্ষদ গঠনে যাচাই-বাছাই চলছে। তবে কবে নাগাদ পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ ও নিয়মিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

ব্যাংকটির আর্থিক দুরবস্থার প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারেও। গত সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের দাম ১৯ টাকা ৫০ পয়সায় নেমে আসে, যা ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে কমেছে ব্যাংকটির নিট সম্পদমূল্যও।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর ব্যাংকটির একক ভিত্তিতে নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৮৪ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৯৬৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির নিট সম্পদমূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

ব্যাংকটির বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আর্থিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এসআই/

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।