দক্ষিণ পূর্ব

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা জরুরি: বিভাগীয় কমিশনার

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ৬ জুন ২০২৬
পঠিত :
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা জরুরি: বিভাগীয় কমিশনার

ছবি : সংগৃহীত

ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন।

 

শনিবার (৬ জুন) সকালে চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এক র‌্যালির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ডেঙ্গু বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এ রোগ নিয়ন্ত্রণে সবাইকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বিশেষ করে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ জমে থাকা পরিষ্কার পানিই এডিস মশার প্রধান প্রজননস্থল।

 

পরে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়া র‌্যালিটি নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। ট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট (অর্থো সার্জারী) ডা. অজয় দাশ ও বন্দর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জাবেদ, আগ্রাবাদস্থ সরকারি মেডিক্যাল সাব-ডিপোর ম্যানেজার ডা. সাখাওয়াত হোসেনসহ এমএসএফ, ব্র্যাক, আইসিডিডিআরবি’র প্রতিনিধি, বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক-কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীরা র‌্যালিতে অংশ নেন।

 

র‌্যালি শেষে হাসপাতালের ড্রেন ও আশপাশের এলাকায় ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশকনিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

 

এ সময় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের কার্যক্রম শুধু বিশেষ দিবস বা কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করতে হবে।

 

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে আতংকিত হওয়ার কিছুই নেই। এডিস মশার বংশ বিস্তার রোধ করার মাধ্যমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব। এয়ার কন্ডিশনার, ফুলের টব, প্লাস্টিকের পাত্র, ড্রাম, পরিত্যক্ত টায়ার, মাটির পাত্র, বালতি, টিনের কৌটা, ডাবের খোসা, নারিকেলের মালা, কন্টেইনার, মটকা, ব্যাটারি শেল ও স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশা ডিম পারে। হাসপাতাল, ঘর ও আশপাশের যে কোনও পাত্রে বা জায়গায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করলে এডিস মশার লার্ভা মরে যায়। জীবন বাঁচানোর জন্য যেকোনও উপায়ে এডিস মশা ধ্বংস করতে হবে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং মশারি ব্যবহারের মাধ্যমে ডেঙ্গু সংক্রমণ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।

 

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।