দক্ষিণ পূর্ব

তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল: অ্যাটর্নি জেনারেল

shakhawat sohan
প্রকাশ : ৫ নভেম্বর ২০২৫
পঠিত :
তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল: অ্যাটর্নি জেনারেল
দক্ষিণপূর্ব ডেস্ক 

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেওয়া হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন থেকে উদ্ভূত আপিলের শুনানিতে মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) তিনি এ মন্তব্য করেন।

শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, তৎকালীন আপিল বিভাগের দেওয়া রায়টি ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে রচিত। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দিতেই এ রায় লেখা হয়েছিল। পরবর্তীতে রায় ঘোষণার পর কোনো রিভিউ ছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক রায়ের ভাষা পরিবর্তন করেছেন, যা দণ্ডবিধির ২১৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

তিনি আরও বলেন, আমরা গণতন্ত্র চাই, গণতন্ত্রের নামে কোনো আচ্ছাদন নয়। মুক্তিযুদ্ধের তিন বছর পরই আমাদের গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছিল।

প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চে আজ অষ্টম দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত আগামীকালও রাষ্ট্রপক্ষের আরও শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন।

এর আগে বিএনপির পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। জামায়াতে ইসলামী পক্ষ থেকে শুনানি শেষ করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিকের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী শরীফ ভূইয়া।


১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা চালু হয়। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালের ১০ মে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সংশোধনীটিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। পরে ওই ভিত্তিতে একই বছরের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয় এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করা হয়।

পরবর্তীতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, পাঁচ নাগরিকসহ কয়েকজন ওই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানান। গত ২৭ আগস্ট আপিল শুনানির অনুমতি (লিভ) মঞ্জুর করে ২১ অক্টোবর থেকে শুনানি শুরু হয়।

গত ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট একটি পৃথক রায়ে পঞ্চদশ সংশোধনীর ২০ ও ২১ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে ঘোষণা করে।

শুনানি চলমান থাকায় মামলার ফলাফল এখনো অপেক্ষাধীন।

এসএস 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।