শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানের লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলটির এই ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, দলের মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ দলটির শীর্ষ নেতারা।
ইশতেহারে এনসিপি রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি, মানবাধিকার, অর্থনৈতিক সংস্কার, তরুণদের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা-স্বাস্থ্য ও নারীর অধিকারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য দফাগুলোর মধ্যে রয়েছে—
জুলাই সনদের বাস্তবায়নে স্বাধীন কমিশন গঠন, জুলাই গণহত্যা, শাপলা চত্বর, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠন।
ধর্মবিদ্বেষ, সাম্প্রদায়িকতা ও সংখ্যালঘু নিপীড়ন রোধে মানবাধিকার কমিশনের বিশেষ সেল গঠন, জনপ্রতিনিধি ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ এবং ‘হিসাব দাও’ পোর্টাল চালুর প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ১০০ টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকদের কর্ম-সুরক্ষা বিমা ও পেনশন, টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড দোকানে ব্যবহারযোগ্য করা, বাড়িভাড়া কাঠামো নির্ধারণ এবং সামাজিক আবাসন প্রকল্প গড়ার কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, এসএমই খাতে ঋণ সহায়তা, নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ তহবিল, বছরে ১৫ লাখ দক্ষ প্রবাসী কর্মী তৈরি এবং মুদ্রাস্ফীতি ৬ শতাংশে নামানোর লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করা হয়।
তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে ভোটাধিকার বয়স ১৬ বছরে নামিয়ে আনা এবং ‘ইয়ুথ সিভিক কাউন্সিল’ গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সংস্কারের অংশ হিসেবে শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন, শিক্ষকদের পৃথক বেতন কাঠামো, স্নাতক পর্যায়ে বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ, বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা জোন, জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ও ডিজিটাল হেলথ রেকর্ড চালুর অঙ্গীকার করা হয়েছে।
নারীর ক্ষমতায়নে সংসদের নিম্নকক্ষে ১০০টি সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচন, ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ও এক মাসের পিতৃত্বকালীন ছুটি, ডে-কেয়ার সুবিধা এবং নারীবান্ধব স্বাস্থ্যসামগ্রী সরবরাহের প্রতিশ্রুতি রয়েছে ইশতেহারে।
এছাড়া প্রবাসীদের জন্য ডায়াস্পোরা ডিজিটাল পোর্টাল, রেমিট্যান্সের বিপরীতে বিনিয়োগ ও পেনশন সুবিধা, প্রতিবন্ধী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত এবং আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।
অনুষ্ঠানে নেতারা বলেন, এই ইশতেহার তরুণদের নেতৃত্বে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মর্যাদাপূর্ণ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা।
আরএইচ/
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।