দক্ষিণ পূর্ব

দু:সময়ের সাথী মাবুদকে স্মরণ করলেন সিডিএ চেয়ারম্যান

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৬
পঠিত :
দু:সময়ের সাথী মাবুদকে স্মরণ করলেন সিডিএ চেয়ারম্যান

ছবি

স্মৃতির কাছে হার মানে না সময়, মুছে যায় না সংগ্রামের সাথীদের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা। সেই মানবিকতারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন।

 

রোববার ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফিরে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা কিংবা অন্যান্য কর্মসূচির আগে তিনি ছুটে যান নগরের উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে। সেখানে চিরনিদ্রায় শায়িত বিএনপির সাবেক নেতা ও তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা মরহুম আলী আজমী মাবুদের কবর জিয়ারত করেন। কবরের পাশে দাঁড়িয়ে প্রিয় সহযোদ্ধার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আলী আজমী মাবুদের কবর জিয়ারত শেষে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সিডিএ চেয়ারম্যান। এ সময় তিনি পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং গভীর সমবেদনা জানান।

 

রাজনৈতিক জীবনের নানা চড়াই-উতরাইয়ে ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন ও আলী আজমী মাবুদ ছিলেন একে অপরের ঘনিষ্ঠ সহযাত্রী। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে গিয়ে তারা একসঙ্গে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় তাদের পায়ে দণ্ডবেড়ি পরিয়ে আদালতে নেওয়া হতো। দীর্ঘদিন দণ্ডবেড়ি পরার কারণে আলী আজমী মাবুদের পায়ে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসাজনিত জটিলতা, কিডনি সমস্যা এবং শারীরিক অবনতির মধ্য দিয়ে তাকে একটি পা হারাতে হয়। দীর্ঘ সংগ্রামের পর একসময় মৃত্যুর কাছে হার মানেন এই ত্যাগী রাজনৈতিক কর্মী।

 

মাবুদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন অতীতের সেই সংগ্রামী দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, “আলী আজমী মাবুদকে কোনোদিন ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। দলের জন্য তিনি ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ একজন কর্মী। একসঙ্গে কারাবরণ, আদালতে যাওয়া, পায়ে দণ্ডবেড়ি পরার কষ্ট—সবকিছু আজও স্পষ্ট মনে আছে। কারাগারের দিনগুলোর কথা মনে পড়লে এখনও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি।”

 

তিনি আরও বলেন, “মাবুদ আজ বেঁচে থাকলে আমাকে সিডিএ চেয়ারম্যান হিসেবে দেখে সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হতো। তার সঙ্গে আমার যে স্মৃতি, তা আজও হৃদয়ে দগদগে হয়ে আছে। আমি আজীবন তার পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার করছি।”

 

এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সিডিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

সিডিএ চেয়ারম্যানের এই সফর ও প্রয়াত সহযোদ্ধার পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছে। অনেকেই এটিকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্ক, ত্যাগ ও বন্ধুত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর বিরল উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

দক্ষিণপূর্ব/

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।