দক্ষিণ পূর্ব

নগরীতে সমন্বয়ক পরিচয়ে বাড়ি থেকে গার্মেন্টস কর্মকর্তাকে অপহরণ, গ্রেপ্তার ৪

sathi
প্রকাশ : ৭ মার্চ ২০২৫
পঠিত :
নগরীতে সমন্বয়ক পরিচয়ে বাড়ি থেকে গার্মেন্টস কর্মকর্তাকে অপহরণ, গ্রেপ্তার ৪
নিজস্ব প্রতিবেদক 

চট্টগ্রাম নগরে  বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয়ে প্যাসিফিক জিন্সের সহকারী মহাব্যবস্থাপক ও তার গাড়িচালককে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একইসাথে তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণের ৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।  

আজ শুক্রবার (৭ মার্চ) দুপুরে সিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের পশ্চিম বিভাগের ডিসি হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

ভুক্তভোগী সহকারী মহা ব্যবস্থাপক আবেদীন আল মামুন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা। বর্তমানে আওয়ামী লীগের পদেও আছেন তিনি। অপর ভুক্তভোগী হলেন আবেদিন আল মামুনের গাড়িচালক মো. জুয়েল।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, চসিকের ১০ নম্বর ওয়ার্ড উত্তর কাট্টলীর জয়নাল আবেদীনের ছেলে নাজমুল আবেদীন, সিটি গেইট এলাকার মাঈনুল আমিন পারভেজের ছেলে নাঈমুল আমিন ইমন ও আরাফাত হোসেন এবং রিসতি বিন ইউসুফ।  
 
ডিসি হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া বলেন, যারা সমন্বয় করেছে ঘটনা ঘটিয়েছেন তাদের সবার বয়স ২২ থেকে ২৩ বছরের এর মধ্যে। তারা কেউ শিক্ষার্থী, আর কেউ পড়ালেখা শেষ করেছেন। তারা নিজেদেরকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয় দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় জড়িত অপি, আলাউদ্দিন, আরাফাত, আসিফসহ আরও কয়েকজনকে আটকে অভিযান অব্যাহত আছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। 

তিনি আরও জানান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয়ে গত বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) দিবাগত রাতে নগরের আকবর শাহ এলাকার বাসা থেকে আবেদীন আল মামুন ও তার গাড়িচালক মো. জুয়েলকে অপহরণ করা হয়। পরে তাদেরকে নগরের আকবর শাহ, পাহাড়তলী, কর্নেল হাট ও পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় ঘোরানো হয়। সেখানে পুলিশের টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা কর্ণেল জোন্স সড়কে এসে অবস্থান নেয়। এরমধ্যে আবেদীন আল মামুনের স্ত্রী ফাতেমা আক্তারের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন অপহরণকারীরা। ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ নগদে আদায় করা হয়, বাকি ১৫ লাখ টাকার ব্যাংকের একটি চেক লিখে নেওয়া হয়। যা আগামী রবিবার ক্যাশ করার কথা ছিল।

তিনি বলেন, অপহরণের খবর ছড়িয়ে পড়লে নগর পুলিশ পুরো শহরে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে অপহৃত দুজনকে ফয়’স লেক চক্ষু হাসপাতালের সামনের রাস্তা থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার রাতভর নগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে নগরের উত্তর কাট্টলী এলাকায় নাঈমুল আমিনের বাসা থেকে মুক্তিপণ হিসেবে নেওয়া ৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। 

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিসি বলেন, প্যাসিফিক জিন্সের পোশাক শ্রমিকদের বেতন নিয়ে যে ঝামেলা চলছে সেটির সাথে এ ঘটনার কোন যোগসূত্র নেই। ছাত্র প্রতিনিধি নামধারীরা টাকার জন্যই আবেদীন আল মামুনের বাসায় হানা দেয়। এসময় তিনি আরও বলেন, আবেদীন আল মামুন একসময় চবি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল কিনা বা বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন কিনা এমন কোন তথ্য আমাদের কাছে নেই। 

এই বিষয়ে জানতে চাইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এখন নির্বাহী কমিটি রয়েছে। সমন্বয়ক কোনো পদ আর নেই। অপরাধীরা যে পরিচয়েই অপরাধ করুক না কেন, দেশের আইনে তার বিচার হতে হবে।

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।