দক্ষিণ পূর্ব

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণ: ১৯ দিন পর বিজিবি সদস্যের মৃত্যু

RAFIQ HYDER
প্রকাশ : ১ নভেম্বর ২০২৫
পঠিত :
নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণ: ১৯ দিন পর বিজিবি সদস্যের মৃত্যু
বান্দরবান প্রতিনিধি 

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার  ঘুমধুমের বাইশফাঁড়ি পেয়ারাবুনিয়া সীমান্তে ল্যান্ডমাইন বিষ্ফোরণে ২ পা উড়ে যাওয়া বিজিবি নায়েক মো. আক্তার হোসেন ১৯ দিনে মাথায় অবশেষে মারা গেছেন। দেশের সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জীবন উৎসর্গ করলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এই সদস্য। 

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে ঢাকার সিএমএইচে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।

বিজিবি জানায়, গত ১২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে নায়েক আক্তার হোসেন কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধীনস্থ রেজুআমতলী বিওপি-তে অস্থায়ীভাবে সংযুক্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন। ওইদিন সকালে পেয়ারাবুনিয়া সীমান্ত এলাকায় টহলরত অবস্থায় মাইন বিস্ফোরণে তিনি গুরুতর আহত হন।

আহত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত সিএমএইচ, রামু সেনানিবাসে নেওয়া হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পরদিন বিজিবি হেলিকপ্টারে করে সিএমএইচ, ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার সকালে তাঁর হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক হয়। উপস্থিত চিকিৎসক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাদাত বিন সিরাজ (ইন্টেনসিভিস্ট বিশেষজ্ঞ)-এর তত্ত্বাবধানে টানা ৪৫ মিনিট ধরে CPR প্রদান করা হলেও তাঁর হৃদ্‌স্পন্দন ফিরে আসেনি। দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

নায়েক আক্তার হোসেনের মৃত্যুতে পুরো বাহিনী জুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

এ বিষয়ে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম (পিএসসি) বলেন, দেশের সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমরা এক সাহসী সহযোদ্ধাকে হারালাম। নায়েক আক্তার হোসেনের আত্মত্যাগ আমাদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।বিজিবির এ কর্মকর্তা শোক প্রকাশ করে আরও  বলেন, শহীদ নায়েক আক্তার হোসেন দেশের জন্য আত্মোৎসর্গের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর আত্মার মাগফেরাত ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রয়াত নায়েক আক্তার হোসেনের মরদেহ পরবর্তীতে নিজ জেলা ভোলার দৌলতখানে দাফন করা হবে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায়।

সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের ভেতরে চলমান সংঘাতের কারণে সীমান্তজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে আরাকান আর্মি সীমান্তবর্তী বেশ কিছু এলাকাকে মাইনফিল্ডে পরিণত করেছে। ফলে ঘুমধুম ও বাইশফাঁড়ি সীমান্ত এলাকা দিয়ে টহলরত বিজিবি সদস্যরাও মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছেন।

এর আগে একই সীমান্ত এলাকায় একাধিকবার মাইন বিস্ফোরণে স্থানীয় নাগরিক ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীরা হতাহত হয়েছিলেন।

রহা

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।