দক্ষিণ পূর্ব

‘নান্দনিক ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম’ গড়ার প্রত্যয়ে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্প পরিদর্শনে সিডিএ চেয়ারম্যান

মনির ফয়সাল
প্রকাশ : ৭ জুলাই ২০২৬
পঠিত :
‘নান্দনিক ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম’ গড়ার প্রত্যয়ে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্প পরিদর্শনে সিডিএ চেয়ারম্যান

ছবি

চট্টগ্রামকে আরও নান্দনিক, আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন নগরের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি, বিদ্যমান সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে সিডিএ চেয়ারম্যান তাঁর অগ্রাধিকারভুক্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প—চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প, কর্ণফুলী নদীর তীরঘেঁষা কালুরঘাট-চাক্তাই সংযোগ সড়ক প্রকল্প এবং শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (উড়ালসড়ক) প্রকল্প পরিদর্শন করেন।

 

দিনের শুরুতে তিনি বহুল আলোচিত জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতাধীন হিজড়া খালের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে প্রবর্তক সেতু, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা এবং আশপাশের এলাকার খালের অসম্পন্ন অংশ ও জলপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা বিভিন্ন ‘বটলনেক’ সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। এছাড়া চাক্তাই এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও জোয়ারের পানি নিয়ন্ত্রণে নির্মিত বিভিন্ন স্লুইসগেটের কার্যকারিতা ও অগ্রগতিও পর্যালোচনা করেন।

 

পরিদর্শন শেষে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, “চট্টগ্রাম একটি অনন্য প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের শহর। খাল, নদী, সাগর, পাহাড় ও সমতলের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এ নগরীর সৌন্দর্য ও সম্ভাবনা অপরিসীম। আমরা চাই পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে আরও নান্দনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য শহরে পরিণত করতে।”

 

এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহসিন প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং বিভিন্ন কারিগরি বিষয় সম্পর্কে চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন।

 

পরে সিডিএ চেয়ারম্যান কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর নির্মাণাধীন কালুরঘাট-চাক্তাই সংযোগ সড়ক প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। প্রকল্পের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখে তিনি কর্ণফুলী নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে পর্যটনের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি ভূমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতায় আটকে থাকা দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানও পরিদর্শন করে দ্রুত সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

 

পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, “কর্ণফুলী নদীকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে পর্যটনের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি এ সম্ভাবনাকেও গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে নগরবাসী ও পর্যটকরা নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।”

 

পরবর্তীতে চেয়ারম্যান শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন র‍্যাম্প ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিদর্শন করেন। আগ্রাবাদ ডেবারপাড় র‍্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা অধিগ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাংলাদেশ বেতার, সাধারণ বীমা করপোরেশন এবং যমুনা অয়েল কোম্পানির স্থাপনাগুলো উল্লেখযোগ্য।

 

পরিদর্শনের একপর্যায়ে এক্সপ্রেসওয়ের টোল প্লাজায় টোল আদায়ের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের যানবাহন নিয়মিত টোল পরিশোধ করছে না।

 

এ বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, “আমাদের এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমি নিজেও টোল দিয়ে এই সড়ক ব্যবহার করেছি। যে সেবা গ্রহণ করবে, তাকে নিয়ম মেনে টোল পরিশোধ করতে হবে। সরকারি বা বেসরকারি—সবাইকে একই নিয়ম অনুসরণ করা উচিত।”

 

তিনি আরও বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং সেবার মান নিশ্চিত করতে টোল আদায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ম মেনে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান তিনি।

 

পরিদর্শনকালে সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, সচিব মোহাম্মদ মাহবুবুল করিম, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী আহমদ মঈনউদ্দিন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহফুজুর রহমান এবং কালুরঘাট-চাক্তাই সংযোগ সড়ক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী রাজীব দাশসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

সিডিএ চেয়ারম্যানের এই পরিদর্শনকে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা এবং একটি আধুনিক, নান্দনিক ও টেকসই চট্টগ্রাম গড়ে তোলার উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

এমএইচএফ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।