চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. সাব্বির হোসেন সানি (৩৪) কে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘ অনুসন্ধান, অবস্থান শনাক্ত ও নজরদারির পর সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে সানিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার সাতবসু এলাকার মো. মালেকের ছেলে। বর্তমানে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগ এলাকায় বসবাস করতেন।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে পুলিশ জানতে পেরেছে, সানি বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সহযোগী। আগে বিদেশে থাকলেও বড় সাজ্জাদের নির্দেশে গত বছর দেশে ফিরে চট্টগ্রামে আসেন তিনি। এরপর থেকে চাঁদাবাজি, মারামারিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। বড় সাজ্জাদ ও বোরহানের হয়ে তিনি এসব অপরাধ পরিচালনা করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে সানি মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন পাওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে দাবি পুলিশের। কারাগারে থাকা ডেভিড ইমনের পরিবর্তে চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়িত্বও তাকে দেওয়া হয়েছিল। এই চক্রের সদস্যরা প্রভাব ও ভীতির পরিবেশ তৈরি করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের চেষ্টা করতেন।
পুলিশের ভাষ্য, চাঁদা দাবির পর নির্ধারিত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে কিংবা অর্থ আদায়ে ব্যর্থ হলে সানির নির্দেশে স্থানীয় সহযোগীরা ভুক্তভোগীদের বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলা চালাতেন।
গ্রেপ্তার সানির বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ ও হাটহাজারী থানায় দুটি মামলা রয়েছে। সম্প্রতি চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি ঘটনার অডিও রেকর্ডও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের হাতে এসেছে। অডিওসহ অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হচ্ছে। চাঁদাবাজিতে সানির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততা, সহযোগীদের পরিচয় এবং অপরাধী চক্রের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে।
জেলা পুলিশ আরও জানায়, ধারাবাহিক অভিযান ও গ্রেপ্তার তৎপরতার কারণে বড় সাজ্জাদ ও ডেভিড ইমনের নির্দেশে চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত চক্রের সদস্যরা অন্য জেলায় আত্মগোপন করছেন। তবে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে জেলা গোয়েন্দা শাখার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আর
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।