দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীকে জনসম্পদে রূপান্তর এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রথাগত ও অপ্রথাগতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা ছাড়া টেকসই জাতীয় প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
সোমবার (২ মার্চ) জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত ‘অদম্য নারী’ পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সংগ্রাম ও সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে চারজন নারীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সবসময় নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে কাজ করেছে। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে নারীদের অবৈতনিক শিক্ষা চালু এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা কর্মসূচির আলোকে নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রথা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে পরিবারের প্রধান হিসেবে নারী কার্ডপ্রাপ্ত হবেন। তালিকা প্রণয়নে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা থাকবে না এবং প্রশাসনের মাধ্যমে স্বচ্ছভাবে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় চার কোটি কর্মক্ষম মানুষ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে রয়েছে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ নারী। তাদের উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা গেলে জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। ইতোমধ্যে অনেক নারী ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে হাঁস-মুরগি পালনসহ বিভিন্ন খাতে অবদান রাখছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নিজের জীবনের সাফল্যে মায়ের অবদানের কথা স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীরা নিরলস ত্যাগ স্বীকার করলেও অনেক সময় তারা প্রাপ্য স্বীকৃতি পান না। নারীর অধিকার কোনো করুণা নয়, এটি তাদের সাংবিধানিক অধিকার বলেও তিনি জোর দেন।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিনের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অ্যাডমিন) মো. নাজিমুল হকসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।