দক্ষিণ পূর্ব

নির্বাচন ঘিরে বিশৃঙ্খলার সুযোগ নেই, বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা: জাহাঙ্গীর আলম

RAFIQ HYDER
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
পঠিত :
নির্বাচন ঘিরে বিশৃঙ্খলার সুযোগ নেই, বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা: জাহাঙ্গীর আলম
নিজস্ব প্রতিবেদক 

 আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। 
তিনি বলেন, যারা অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। সবাই সহযোগিতা করলে নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হবে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাইতুল ইজ্জতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

এর আগে বিজিবির ঐতিহ্যবাহী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের (বিজিটিসিঅ্যান্ডসি) বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নবীন সৈনিকদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ও কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন উপদেষ্টা। তিনি অভিবাদন গ্রহণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের সূচনা করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং বিজিটিসিঅ্যান্ডসির কমান্ড্যান্টসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এবারের কুচকাওয়াজে বিজিবির ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক ৩ হাজার নবীন সদস্য দেশমাতৃকার সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার শপথ নেন। প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে উপদেষ্টা নবীন সৈনিকদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, ২৩০ বছরের ঐতিহ্যবাহী বিজিবি আজ একটি সুসংগঠিত, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পেশাদার বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি চোরাচালান, মাদক ও মানবপাচার প্রতিরোধ, অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় বাহিনীটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

নবীন সৈনিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শৃঙ্খলাই একজন সৈনিকের প্রধান অলংকার। যে সৈনিক আদেশ ও কর্তব্য পালনে কখনো পিছপা হয় না, সেই প্রকৃত সৈনিক। সততা, আনুগত্য, নির্ভরযোগ্যতা ও উদ্দীপনাই বাহিনীর পেশাগত মানদণ্ড এ গুণাবলি ধারণ করে বিজিবির ঐতিহ্য সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

১০৪তম রিক্রুট ব্যাচে সর্ব বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করায় বক্ষ নম্বর ১৫৫ এর রিক্রুট আল ইমরানকে অভিনন্দন জানান উপদেষ্টা। পাশাপাশি শারীরিক উৎকর্ষতায় প্রথম স্থান অর্জনকারী বক্ষ নম্বর ২৭৬৯ এর শপিকুল ইসলাম ও বক্ষ নম্বর ১৫১৫ এর রিক্রুট লুবনা খাতুন এবং শ্রেষ্ঠ ফায়ারার হিসেবে বক্ষ নম্বর ১৩৪৭ এর শফিকুর রহমান তামিম ও বক্ষ নম্বর ১৫৩১ এর নাহিদা আক্তারকে শুভেচ্ছা জানান তিনি।

উপদেষ্টা আরও জানান, বিজিটিসিঅ্যান্ডসি গত ৪৪ বছর ধরে বিজিবির রিক্রুটদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ৭২টি ব্যাচ সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে এই প্রতিষ্ঠান। যদিও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির ধারণক্ষমতা ৭০০ থেকে ১ হাজার জন, তবু ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচে ৩ হাজার ২৩ জন (পুরুষ ২ হাজার ৯৫০ ও নারী ৭৩) রিক্রুটকে সফলভাবে মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। একসঙ্গে তিন হাজারের বেশি রিক্রুটকে প্রশিক্ষণ দিয়ে বিজিবি স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে নবীন সৈনিকদের সমন্বয়ে সশস্ত্র সালাম, ট্রিক ড্রিল এবং বিজিবির সুসজ্জিত বাদকদলের ব্যান্ড ডিসপ্লে প্রদর্শিত হয়।

অনুষ্ঠানে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

রহা

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।