দক্ষিণ পূর্ব

পটিয়া বিএনপির কমিটি নিয়ে দৌড়ঝাঁপ, শীর্ষ পদ পেতে মরিয়া বিতর্কিতরা

sathi
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
পঠিত :
পটিয়া বিএনপির কমিটি নিয়ে দৌড়ঝাঁপ, শীর্ষ পদ পেতে মরিয়া বিতর্কিতরা
আবু রুহামা
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা বিএনপির আসন্ন কমিটিকে ঘিরে পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। কেউ কেউ কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন। ত্যাগী নেতারা যেমন তদবির চালাচ্ছেন, তেমনি অতীতের অপকর্মে অভিযুক্ত নেতারাও মরিয়া হয়ে উঠেছেন শীর্ষ পদে আসতে। আবার সুযোগ সন্ধানীরাও চাইছেন কমিটিতে স্থান করে নিতে।বিতর্কিত শিল্প গ্রুপ এস আলমও পটিয়া বিএনপির কমিটিতে নিজেদের লোক বসাতে তোড়জোড় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, পটিয়া উপজেলা ও পৌর বিএনপির শীর্ষ পদে আসতে মরিয়া হয়েছেন বিতর্কিত শিল্পগ্রুপ এস আলমের গাড়ি সরানোর ঘটনায় অভিযুক্ত  এনামুল হক এনাম ও খোরশেদ আলম। তাদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় নেতাদের ‘ম্যানেজ’ করতে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে।

২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট রাতে নগরীর কালুরঘাট শিল্প এলাকার (বিসিক) মীর গ্রুপের মালিকানাধীন একটি ওয়্যারহাউস থেকে ১৪টি বিলাসবহুল গাড়ি সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে ২ সেপ্টেম্বর এ ঘটনায় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক মো. এনামুল হক এনাম ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এসএম মামুন মিয়ার প্রাথমিক সদস্যসহ দলীয় পদ স্থগিত করা হয়।

এরপর ৮ অক্টোবর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ কলিম উল্লাহ চৌধুরী। অভিযোগে বলা হয়, ৫ আগস্টের পর পটিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব খোরশেদ আলম দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কল-কারখানায় চাঁদাবাজি ও মামলা বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন। তিনি দাবি করেন, ‘এস আলম গাড়ি কাণ্ডে’ খোরশেদ আলম নিজেই এক সংবাদ সম্মেলনে এসব স্বীকার করেছেন।

গত ৫ আগস্টের পর পটিয়া থানায় বিএনপির দায়ের করা একটি মামলায় আসামি হন জাতীয় শ্রমিক লীগ সভাপতি সামশুল ইসলাম। মামলায় শীর্ষস্থানীয় ওই আওয়ামী লীগ নেতার নাম অন্তর্ভুক্তিকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খোরশেদ আলম। একই সঙ্গে ওই নেতাকে গ্রেপ্তার না করা ও ভবিষ্যতে কোনো মামলায় আসামি না করার গ্যারান্টিও দেন তিনি— যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি অডিও ক্লিপ থেকে জানা গেছে।

গত ৩০ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনে বিএনপির তৃণমূল কর্মীরা অভিযোগ করেন, বিতর্কিত এনামুল হক আওয়ামী লীগ আমলে চাল ব্যবসায়ী হিসেবে আঁতাত করে ব্যবসা ও রাজনীতি করেছেন। তাদের দাবি, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বিএনপির তৃণমূল কর্মীরা নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

যদিও ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত তিনটি পৃথক চিঠিতে ওই তিন নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।

এদিকে চলতি বছরের ৬ মে মো. ইদ্রিস মিয়াকে আহ্বায়ক ও লায়ন হেলাল উদ্দিনকে সদস্যসচিব করে ৫৪ সদস্যবিশিষ্ট চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ফলে পটিয়া ও পৌরসভায় কমিটিতে পদ পেতে আবারও শুরু হয়েছে প্রত্যাশীদের   দৌড়ঝাঁপ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির  এক।শীর্ষ নেতা জানান, সম্প্রতি নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্রে করে গোপনে বিতর্কিত শিল্পগ্রুপ এস আলম তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের শীর্ষ পদে বসানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে তাদের লোক বসাতে পারলে কোম্পানিটি নানাভাবে আশ্রয় ও সুবিধা পাবে। এজন্য নানা তদবির চালানো হচ্ছে এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছেও বারবার ধরনা দেয়া হচ্ছে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে  চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিন বলেন, পূজার পর আশা করছি পটিয়াসহ দক্ষিণ জেলার আওতাধীন সব ইউনিটের কমিটি গঠন করা হবে। এক্ষেত্রে ক্লিন ইমেজের পাশাপাশি দলের দুঃসময়ে মাঠে থাকা নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে।আমাদের হাইকমান্ড এই বিষয়ে অবগত আছেন।কাজেই বিতর্কিত কাউকে পুনর্বাসনের সুযোগ নেই।

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।