চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশে উম্মে হাবিবা (২১) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগে তাঁর স্বামী মাহমুদুল হাসান (২৪) ও ননদ শাকিলাকে (২২) আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরের হাজী চান মিয়া রোডের কালারপুল এলাকার কাসেম ভিলার তৃতীয় তলার একটি বাসা থেকে হাবিবার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত হাবিবা কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের নুরুল কবিরের মেয়ে। আটক মাহমুদুল হাসান ও তাঁর বোন শাকিলা বাঁশখালীর সাধনপুর এলাকার মোবারক হোসেনের সন্তান।
নিহতের ভাই ও মামলার বাদী মো. ইদ্রিস রানা অভিযোগ করেন, গত ২ ফেব্রুয়ারি পারিবারিকভাবে মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে হাবিবার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকসহ বিভিন্ন অজুহাতে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের এক মাসের মাথায় স্বামীর বোনের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানের জন্য হাবিবার সব স্বর্ণালংকার নিয়ে যান মাহমুদুল হাসান। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফির টাকা দেওয়ার জন্য হাবিবাকে নিয়মিত চাপ দেওয়া হতো। কোরবানির ঈদে বাবার বাড়ি থেকে ছাগল ও পর্যাপ্ত কাপড়চোপড় দেওয়া হয়নি—এমন অভিযোগেও তাঁকে নির্যাতন করা হতো। একাধিকবার মারধরের শিকার হলেও সংসার টিকিয়ে রাখার স্বার্থে তিনি এসব সহ্য করে আসছিলেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, গত ১ নভেম্বর শ্বশুরবাড়ির লোকজন হাবিবাকে পেকুয়ার পৈতৃক বাড়ি থেকে চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারের পেছনে কালারপুল এলাকার ওই বাসায় নিয়ে আসেন। পরদিন রাত ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে হাবিবার বাবাকে ফোন করে তাঁর মৃত্যুর খবর জানানো হয়।
খবর পেয়ে স্বজনেরা বাসায় গিয়ে বিছানায় শোয়ানো অবস্থায় হাবিবার মরদেহ দেখতে পান। এ সময় তাঁর গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। স্বজনদের দাবি, হাবিবাকে নির্যাতন করে তাঁর অনাগত সন্তানসহ হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বা স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাইয়ের দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত স্বামী ও তাঁর বোনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।