পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় ১২টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ই-লার্নিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের তিনটি প্রাথমিক ও নয়টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।
এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা, প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
আজ থেকে যেসব বিদ্যালয়ে ই-লার্নিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— রাঙামাটির রাণী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয়, কাপ্তাই আল-আমিন নূরীয়া দাখিল মাদরাসা, ফারুয়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ইসলামাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়; খাগড়াছড়ির কমলছড়ি পাইলট হাই স্কুল, হাজাছড়ি জুনিয়র হাই স্কুল, মানিকছড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পুজগাং মুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়; এবং বান্দরবানের বালাঘাটা আইডিয়াল স্কুল, হাজী ফিরোজা বেগম ওয়ামি একাডেমি, তিন্দু জুনিয়র হাই স্কুল ও বগামুখ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সারা পৃথিবীতে ইন্টারনেট পৌঁছে গেলেও পার্বত্য অঞ্চলে তা এতদিন পৌঁছায়নি, যা সরকারের ব্যর্থতা। এজন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আজ ১২টি বিদ্যালয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিন পার্বত্য জেলায় নির্বাচিত ১৪৯টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ই-লার্নিং চালু করা হবে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ইন্টারনেট থাকলে আর একজন শিক্ষকের ওপর নির্ভর করতে হবে না। বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দের শিক্ষকের কাছে শিক্ষা নিতে পারবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও ইন্টারনেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ দেশের অন্যান্য নাগরিকদের মতোই সমান অধিকার পাবে। বঞ্চিত থাকার কোনো কারণ নেই। এ বৈষম্য দূর করা সরকারের দায়িত্ব।
পরে কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে ভার্চুয়ালি মতবিনিময় করেন প্রধান উপদেষ্টা। ই-লার্নিং কার্যক্রম শুরুর জন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, এ কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকার তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছে। তিনি বলেন, শিক্ষায় পার্বত্য অঞ্চলে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও বেশি বিদ্যালয়কে এই কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে।
আর এইচ/
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।