চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর টোল রোড এলাকায় গাড়িচালক মো. সজিব হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. তাজউল ইসলামের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের মো. নুরুল আমিন, কুমিল্লার দেবিদ্বারের মো. শাহজাহান এবং ফেনী সদর উপজেলার মো. নুরুল আলম টুটুল। রায় ঘোষণার সময় নুরুল আলম টুটুল আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অপর দুই আসামি নুরুল আমিন ও শাহজাহান পলাতক রয়েছেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী এস এম কাওসার সাগর বলেন, মামলায় ২১ জনের সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত প্রমাণ পর্যালোচনা করে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন।
রায় ঘোষণার পর আদালতে উপস্থিত আসামি নুরুল আলম টুটুলকে সাজা পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পলাতক দুই আসামি নুরুল আমিন ও শাহজাহানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১৭ অক্টোবর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন নোয়াখালীর চাটখিলের বাসিন্দা মো. সজিব। তিনি পেশায় গাড়িচালক ছিলেন। বিভিন্ন জেলায় মালামাল পরিবহনের কাজ করতেন তিনি।
নিখোঁজের ১০ দিন পর, ২৭ অক্টোবর পাহাড়তলী থানাধীন টোল রোডের পূর্ব পাশে শিল্প পুলিশের অধিগ্রহণ করা জমির পশ্চিম পাশে সেকান্দরের কৃষিজমি থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের মাধ্যমে মরদেহটি মো. সজিবের বলে শনাক্ত করা হয়।মরদেহের মাথার পেছনে থেতলানো, বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় তদন্ত শেষে পুলিশ তিনজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। ২০২৩ সালের ১১ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মামলাটির বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সোমবার তিন আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন আদালত।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।