নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)’র সাথে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুর রহমানের একটি ‘বিতর্কিত’ কথোপকথন বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে মিরসরাইয়ের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুর রহমানকে বলতে শোনা যায়, যদি মনে করেন পুলিশের সাথে এসিস্ট্যান্ট লোক লাগবে, আমি শিবিরের জামায়াতের লোক দিবেন সে প্রার্থী। গোয়েন্দা লোক লাগলে স্পেশালি লোক ছাড় দেবেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভিডিওটি ২০ নভেম্বর বিকেলে মিরসরাই থানা থেকে ধারণ করা হয়েছে। মিরসরাইয়ে ডাকাতির ঘটনা বন্ধের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ওসিকে এ কথা বলেন জামায়াতের প্রার্থী। এতে ওসিকে উদ্দেশ্য করে সাইফুর রহমানকে বলতে শোনা যায়, মীরসরাইতে ক্রমবর্ধমান ডাকাতি চলছে, যদি আমরা দু-একটা ডাকাতকে স্ট্যান্ডবাই ধরতে পারতাম, শাস্তি দিতে পারতাম, কিছু একটা লোকজনের নজরে আনতে পারতাম, তখন হয়ত সবাই মনে করত অ্যাকশনমূলক কাজটা বেশি হচ্ছে।
কথোপকথনের ভিডিওতে ওসি আতিকুর রহমানকে উদ্দেশ্য করে অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান বলেন, আপনি যদি লজিস্টিক সাপোর্ট চান, পুলিশের সাথে যদি মনে করেন সহায়ক পুলিশ লাগবে, আমি শিবির-জামায়াতের লোক দিবো। যদি আপনারা মনে করেন- গোয়েন্দার লোক লাগবে, আপনি ইউনিয়ন ভিত্তিতে গোয়েন্দার টিম গঠন করেন, আমি স্পেশালি লোক সাপ্লাই দিবো।
ভিডিওতে সেই জামায়াত প্রার্থীকে আরও বলতে শোনা যায়, ডিজিএফআইয়ের এখানে যিনি দ্বায়িত্বে ছিলো তার সাথে ফোন করে কথাও বলছি। এর আগেও এসপি যিনি ছিলো, তাকেও আমি বলেছি। আমি বললাম যে- দেখেন এগুলোর সাথে আপনারাই সম্পৃক্ত, আপনি ইনফরমেশান দিলেইতো পুলিশ অ্যাকশানে যাবে।
ভিডিওতে ওসি আতিকুর রহমানকে বলতে শোনা যায়, অন্তত ১৫টা দিন আপনারা আমাকে সহযোগিতা করেন, দেখেন কী রেজাল্ট আসে। আপনি যেটা প্রথমে প্রস্তাব দিয়েছেন, আমি এটাতে খুবই আনন্দিত এবং খুব খুশি হয়েছি। আপনাদের সমাজসেবী যারা আছেন, পাড়ায়-পাড়ায় মহল্লায়-মহল্লায় টিম করে দেন, আমরা একটা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ করি, আমার পুলিশের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। আমি সরাসরি যুক্ত থাকব। মাঠে তাদের তদারকি করব, তাদের সেফটি আমি দেব।
এদিকে এ বক্তব্যের বিষয়ে এমপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান বলেন, এলাকায় ডাকাত, সন্ত্রাস বেড়ে যাওয়ায় আমরা অন্য রাজনৈতিক নেতাদেরকে নিয়ে পুলিশের সাথে সেদিন বসেছিলাম।সেখানে পুলিশ জানিয়েছিলো তাদের পর্যাপ্ত সোর্স না থাকায় এই অপরাধীদেরকে গ্রেফতার করা কষ্টকর হচ্ছে।তখন আমি বলেছিলাম, পুলিশের প্রয়োজন হলে আমাদের জনশক্তিরা সহযোগিতা করবে।বিষয়টি ছিলো এরকম। আর এই বিষয়টিকেই একটি গণমাধ্যমক বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে মানুষজনকে বিভ্রান্ত করছে।যেখানে ওই সময় স্থানীয় সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম বলেন, ভিডিওতে যেসব বক্তব্য এসেছে, সেগুলো যাচাই করে দেখা হচ্ছে। পুলিশের সঙ্গে এমন আচরণ বা এ ধরনের ভাষ্য গ্রহণযোগ্য নয়। কেউ এভাবে বলতে পারেন না।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।