দক্ষিণ পূর্ব

পেকুয়ায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে আপন ভাইকে ব্লেড দিয়ে আঘাত

Istiyak
Istiyak
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ১০:০৮ দুপুর
পঠিত : ২৪
পেকুয়ায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে আপন ভাইকে ব্লেড দিয়ে আঘাত

ছবি- দক্ষিণপূর্ব

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের বড় ভাইকে ব্লেড দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত আলাউদ্দিনকে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। 

গত ২১ অক্টোবর রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে মগনামা ইউনিয়নের বাইন্যাঘোনা এলাকায় রূপাইখালের পাশে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযুক্ত তারেকের পরিকল্পনায় আতশবাজি ফাটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয় এবং পরে তিনি নিজেই তাঁর বড় ভাই আলাউদ্দিনকে ব্লেড দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাইন্যাঘোনা গ্রামের আব্দুল মজিদের পরিবারের দলিলভুক্ত জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ঘটনার দিন সকালে আব্দুল মজিদের লোকজন ওই জমিতে কাজ করতে গেলে আলাউদ্দিন ও তারেকের বড় ভাই গিয়াস উদ্দীন বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ওই বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে আইনি জটিলতায় ফেলতে গভীর রাতে আতশবাজি ফাটিয়ে গোলাগুলির মতো পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হয়। পরে আলাউদ্দিনকে ব্লেড দিয়ে আঘাত করে হামলার ঘটনা সাজানো হয়।

মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের ইউনিয়নে এ ধরনের কোনো রক্তক্ষয়ী সংঘাত বা রাতের আঁধারে বহিরাগত হামলার ঘটনা ঘটেনি। উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত একটি বিরোধ বিদ্যমান ছিল। সকালে তাদের মধ্যে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছে বলে শুনেছি। তবে রাতে হামলা বা হাসপাতালে ভর্তির মতো যে ঘটনা প্রচার করা হচ্ছে, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। 

স্থানীয় বাসিন্দা খালেক আলী বলেন, সকালে জমিতে কাজ করতে গেলে গিয়াস উদ্দীন বাধা দেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। তবে রাতে ব্লেড দিয়ে আঘাতের ঘটনাটি তাঁর কাছে সন্দেহজনক বলে মনে হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রতিপক্ষকে পুলিশি ঝামেলায় ফেলতে এ ঘটনা সাজানো হয়ে থাকতে পারে।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মিজান  বলেন, রাতে আতশবাজির বিকট শব্দ শুনে কয়েকজন গ্রামবাসী রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। তবে সেখানে কোনো বহিরাগত হামলাকারীকে তাঁরা দেখতে পাননি। তাঁর অভিযোগ, প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে ঘটনাটি সাজানো হয়ে থাকতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আমিন  দাবি, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে এ ঘটনা তৈরি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে পেকুয়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা ইমরুল জানান, 'বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। ঘটনাটি সাজানো কি না, নাকি প্রকৃতপক্ষে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, 'জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আহত হওয়ার ঘটনা এবং এর পেছনে সাজানো ঘটনার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় গুঞ্জন চলছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।'

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।