দক্ষিণ পূর্ব

প্রাচ্যের রাণী চট্টগ্রাম: পর্যটনে অপার সম্ভাবনার হাতছানি

sathi
প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
পঠিত :
প্রাচ্যের রাণী চট্টগ্রাম: পর্যটনে অপার সম্ভাবনার হাতছানি
শাখাওয়াত সোহান
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই অঞ্চলটি ‘প্রাচ্যের রাণী’ হিসেবে পরিচিত। প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য আর সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য চট্টগ্রাম শুধু দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীই নয়, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছেও এক আকর্ষণীয় গন্তব্য। পাহাড়, সমুদ্র, নদী ও বন্যপ্রাণীর অনন্য সমন্বয়ে গঠিত চট্টগ্রামের ভ-ূপ্রকৃতি এটিকে পর্যটনের এক অপার সম্ভাবনাময় স্থানে পরিণত করেছে। 

চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এখানে আসা পর্যটকদের মুগ্ধ করে। এর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো পাহাড় ও সমুদ্রের মনোরম সহাবস্থান। এরমধ্যে অন্যতম হলো পতেঙ্গা সৈকত। শহরের কাছেই অবস্থিত এই জনপ্রিয় সৈকতে সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য আর সাগরের ঢেউ উপভোগ করতে সারা বছর পর্যটকদের আনাগোনা লেগে থাকে। এছাড়া আছে কাপ্তাই লেক। পাহাড়ি এলাকার মাঝে বিস্তৃত এই কৃত্রিম হ্রদ নৌকাভ্রমণ এবং জলকেন্দ্রিক পর্যটনের জন্য এক আদর্শ স্থান। চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলজুড়ে রয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় ঝরনা। সীতাকুণ্ডের খৈয়াছড়া এবং নাপিত্তাছড়া ঝরনা প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। এছাড়া, হিমছড়ি ঝরনা আর পাহাড়ও পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। এছাড়া রয়েছে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক নিদর্শন। 

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি চট্টগ্রাম তার সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সংস্কৃতির জন্যও সুপরিচিত।আধ্যাত্মিক  দর্শনার্থীদের জন্য বায়জিদ বোস্তামীর মাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখানে রয়েছে বিরল প্রজাতির কাছিম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি বহনকারী ওয়ার সিমেট্রি আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকর্ষণ করে। এছাড়া, সংস্কৃতি ও ইতিহাসপ্রেমীরা চট্টগ্রাম বৌদ্ধবিহার, আদিবাসী সংস্কৃতি, জাদুঘর এবং শিল্পকলা একাডেমি ঘুরে আসতে পারেন।

 ঐতিহ্যবাহী স্থানের মধ্যে চেরাগী পাহাড়কে ঘিরে গড়ে উঠেছে চট্টগ্রামের সাহিত্য ও সাংবাদিক পাড়া। এখানে অনেক পুরোনো প্রেস ও প্রিন্ট মিডিয়ার অফিস রয়েছে। এছাড়া, শহরের বুকে অবস্থিত সিআরবি পাহাড়, জালালাবাদ পাহাড় এবং জিলাপি পাহাড়ও বেশ জনপ্রিয়।

 চট্টগ্রামের বৈচিত্র্যপূর্ণ ভূ-প্রকৃতি একে বিভিন্ন ধরনের পর্যটনের জন্য উপযোগী করে তুলেছে। যেমন: ইকো-ট্যুরিজম; সীতাকুণ্ডের ইকোপার্ক এবং বনভূমি প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য চমৎকার জায়গা। এখানে নানা ধরনের গাছপালা ও বন্যপ্রাণী দেখা যায়। কোস্টাল ট্যুরিজম; বঙ্গোপসাগর ঘেঁষা চট্টগ্রাম উপকূল, বিশেষ করে কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত মেরিন ড্রাইভ, বিশ্বমানের সমুদ্রতীরবর্তী পর্যটনের সম্ভাবনা তৈরি করছে।এছাড়া বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্র এবং এর দ্বীপগুলো যেমন সন্দ্বীপ, মহেশখালী ও সেন্টমার্টিন সামুদ্রিক পর্যটনের অপার সম্ভাবনা বহন করছে।

অর্থনৈতিক অবদান ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন
 পর্যটন খাতের বিকাশে চট্টগ্রাম দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই শিল্প হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আয় বাড়াচ্ছে এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করছে। চট্টগ্রামের পর্যটনকে আরও আকর্ষণীয় করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প চলছে। বঙ্গবন্ধু টানেল এবং নতুন চার-লেন সড়কগুলো যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সহজ করেছে। এছাড়া, কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ঢাকা বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালগুলো বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করতে বড় ভূমিকা রাখবে। বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে নতুন হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট নির্মাণ আরামদায়ক ও নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করছে। 

বলা যায়, চট্টগ্রাম শুধুমাত্র দেশের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র নয়, বরং পর্যটনের এক অপার সম্ভাবনার খনি। সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগে এই অঞ্চল দ্রুতই একটি বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। 
চলতি মাসের ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়। পর্যটনের ভূমিকা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক উপযোগিতাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া এ দিবসের লক্ষ্য। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএনডব্লিউটিও) উদ্যোগে ১৯৮০ সাল থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর দিবসটি পালন করা হয়।

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।