ফটিকছড়ি সংবাদদাতা:
সাংবাদিককে দেখে নেওয়ার হুমকি ভিত্তিহীন দাবি করেছেন ফটিকছড়ি জনস্বার্থ রক্ষা কমিটির নেতা মো: আমান উল্লাহ আমান। তিনি জানান, তার নামে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদ "ভিত্তিহীন, অসত্য ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত"। এর আগে তার বিরুদ্ধে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নাম ব্যবহার করে এক সাংবাদিককে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
মো:আমান উল্লাহ আমান বলেন, আমি ফটিকছড়ির পৌরসভার সন্তান। ফটিকছড়িতে কর্মরত সকল সাংবাদিক ভাইদের সাথে আমার আত্মার সম্পর্ক। বিবিরহাট বাজারে একটি সাত তলা ভবন হেলে পড়ার খবর শুনে সাংবাদিক ভাইয়েরা পৌঁছার আগেই আমি উপস্থিত হয়েছি। গতকাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ভূমি কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা পরিদর্শনে যাওয়ার খবর শুনে ফটিকছড়ি পৌরসভা বাসিরপক্ষ থেকে ফটিকছড়ি জনস্বার্থ রক্ষা কমিটির নেতা হিসেবে আমি উপস্থিত ছিলাম। কোনো দল, ব্যক্তি বা কারো প্রতি দুর্বলতা প্রদর্শন বা কারো অনুরোধে আমি যায়নি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ জনতার মধ্যে বেশ কয়েকজন সম্মানিত সাংবাদিক ভাইও ছিলেন। ফটিকছড়িতে কর্মরত সকল সাংবাদিক ভাইয়ের সাথে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। কোনো সাংবাদিক ভাইয়ের পেশাগত দায়িত্বপালনে বাধাঁ দেওয়ায় আমি বিশ্বাসী নয়। আমার সাথে কারো ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব থাকতে পারে, কিন্তু এটাকে কাজে লাগিয়ে ফটিকছড়িতে কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে আমার সম্পর্ক নষ্ট করার হীন উদ্দেশ্যে। আমার বিরুদ্ধে ফটিকছড়িতে কর্মরত সাংবাদিক ভাইদেরকে হুমকি ও দেখে নেওয়ার অভিযোগ এনে সংবাদ প্রকাশ করা হয় যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত। বস্তুত সেখানে আমি উপস্থিত সাংবাদিকসহ উপজেলার সকল সাংবাদিক ভাইদেরকে অন্যায়, অনিয়ম ও সকল প্রকারের দূর্নীতির বিষয়ে লিখার আহ্বান জানিয়েছি।
একজন মানুষ হিসেবে শব্দ চয়নের ক্ষেত্রে আমার ভুলও হতে পারে এটাকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে উপস্থিত কোনো একজন ভাই সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে আমার বিরুদ্ধে সাংবাদিকদেরকে হুমকি ধমকি ও দেখে নেওয়ার অভিযোগ আনে ও সংবাদ প্রকাশ করে। যা সম্পূর্ণভাবে অসত্য ও ভিত্তিহীন। ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব থেকে এভাবেই উদ্দেশ্য প্রণোদিত সংবাদ প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে মো:আমান উল্লাহ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দু:খ প্রকাশ করেন।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে হেলে পড়া একটি সাততলা ভবন পরিদর্শনে যান ইউএনওসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এসময় সেখানে আমানও উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকরা জানান, ইউএনও, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নজরুল ইসলাম, পৌরসভার প্রকৌশলী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতেই মো. আমান সাংবাদিকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান।
এসময় তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা (সাংবাদিকরা) সত্য মিথ্যা যাচাই না করে মিথ্যা নিউজ করেন। আমরা আপনাদের দেখে নিবো।” এক পর্যায়ে তিনি উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিকদের দিকে তেড়ে যান এবং ক্ষমতার দাপট দেখানোর চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেন সাংবাদিকরা।
নিজের পরিচয় সম্পর্কে মো. আমান নিজেকে ভবন মালিক আব্দুল খালেকের আত্মীয় এবং শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ফটিকছড়ি পৌরসভা শাখার সহ-সভাপতি হিসেবে দাবি করেন।
তবে, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ফটিকছড়ি উপজেলা (থানা) শাখার সেক্রেটারি মো. আবু জাফর গণমাধ্যমকে বলেন, “আমান নামে এই নামের বা পদের কাউকে আমি চিনি না। ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা দলের নীতি-আদর্শে বিশ্বাসী। এ ধরনের গর্হিত কাজকে তারা সমর্থন করেন না। কেউ ফেডারেশনের নাম ব্যবহার করে অপকর্ম করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর আহমেদ বলেন, “সাংবাদিকরা বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। তাদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।