ফটিকছড়ি প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর নির্ধারণের দাবিতে চলমান ৪৮ ঘণ্টার হরতালের প্রথম দিনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একাধিক সাংবাদিক বাধা ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রেস পরিচয়পত্র প্রদর্শন এবং মোটরসাইকেলে 'প্রেস' স্টিকার থাকা সত্ত্বেও তাদের সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া হয় বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, দায়িত্ব পালনের সময় সহযোগিতা পাওয়ার পরিবর্তে আন্দোলনকারীদের কয়েকজন তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
রোববার (২৬ জুলাই) দাঁতমারা, শান্তিরহাট বাজার ও হালদা ভ্যালি চা–বাগান এলাকায় হরতালের সমর্থনে সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে আন্দোলনকারীরা। এ সময় ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহে গেলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা বাধার মুখে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শান্তিরহাট বাজারের দক্ষিণ পাশে তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করা হয়। সাংবাদিক পরিচয় ও পরিচয়পত্র দেখানোর পরও চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং কয়েকজন সাংবাদিকের উদ্দেশে অশোভন মন্তব্য করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় বাধার শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন দৈনিক ইনকিলাব ও বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম-এর প্রতিনিধি আলমগীর নিশান, দৈনিক ভোরের দর্পণ-এর প্রতিনিধি জুনায়েদ, নাগরিক টেলিভিশনের প্রতিনিধি শাহনেওয়াজ নাজিম এবং আরটিভি ও দৈনিক আজাদী-এর প্রতিনিধি জিপন উদ্দিন। তাদের ভাষ্য, পরিচয় নিশ্চিত করার পরও সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া হয়েছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এ বিষয়ে হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) কাজি তারেক আজিজ বলেন, সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা মিললে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরএইচ/ দক্ষিণপূর্ব
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।