দক্ষিণ পূর্ব

জুলাই যোদ্ধাদের ছাড়াই ফটিকছড়িতে জুলাই দিবস পালন, প্রশ্নের মুখে উপজেলা প্রশাসন

দক্ষিণপূর্ব
প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২৬
পঠিত :
জুলাই যোদ্ধাদের ছাড়াই ফটিকছড়িতে জুলাই দিবস পালন, প্রশ্নের মুখে উপজেলা প্রশাসন

প্রতিনিধি

 ফটিকছড়িতে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত কর্মসূচিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অংশীজন, জুলাই যোদ্ধা ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের আমন্ত্রণ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।অনেকের মতে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ ছাড়া রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি পালন করায় আয়োজনটির অন্তর্ভুক্তিমূলকতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ এবং কওমি ঘরানার কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত জুলাই দিবসের কর্মসূচিতে প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বিএনপি ও ছাত্রদলের কয়েকজন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকলেও জুলাই আন্দোলনের পরিচিত অংশীজন, জুলাই যোদ্ধা, আহত যোদ্ধা কিংবা জুলাই আন্দোলনে আহত পরিবারের সদস্যদের কাউকে দেখা যায়নি। 

অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি।জুলাই আন্দোলনের স্থানীয় কয়েকজন অংশীজন বলেন, যাঁদের আত্মত্যাগ ও ভূমিকার স্মরণে দিবসটি পালিত হচ্ছে, তাঁদেরই রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির বাইরে রাখা হয়েছে। এতে জুলাই আন্দোলনের চেতনা ও ইতিহাসের যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি।স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতারা অভিযোগ করেন, জুলাই দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে তাঁদের কোনো নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তাঁরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে বৈষম্যমূলক আচরণ বলে উল্লেখ করেন।

স্থানীয় বিশিষ্টজনদের অনেকে বলেন, "জুলাই কারও একক কৃতিত্ব নয়। ইতিহাস বিকৃত না করে ভবিষ্যতে সব অংশীজনকে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করা উচিত।"চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সমন্বয়ক মুহাম্মদ একরামুল হক বলেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থান থেকে উঠে আসা দল এনসিপিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া দল ও অংশগ্রহণকারীদের বাদ দিয়ে জুলাই শহীদ দিবস পালন করা হয়েছে। জুলাই কোনো ব্যক্তি বা দলের সম্পত্তি নয়; এটি গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সব মানুষের।"

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম জেলার সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আকিব হাসান মাহি বলেন, "জুলাইয়ের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে গঠিত সরকারের আমলেই ফটিকছড়িতে জুলাইয়ের অংশীজনদের বাদ দিয়ে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এতে জুলাইয়ের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে।"

জুলাই আন্দোলনের প্রথম সারির যোদ্ধা সাইরান কাদের চৌধুরী অভিযোগ করেন, "যাঁদের রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে এই ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে, তাঁদেরই আমন্ত্রণ না পাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।"

অভিযোগের বিষয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, "খুব অল্প সময়ের মধ্যে তড়িঘড়ি করে অনুষ্ঠান আয়োজন করতে হয়েছে। সে কারণে সবার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি ইচ্ছাকৃত নয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মসূচিতে সব অংশীজনকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে।"

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।